দীর্ঘ এ সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বারবার চিঠি চালাচালি হলেও এটি চালুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা রাতের লোডশেডিংয়ে অন্ধকার ও ভ্যাপসা গরমে রোগী ও চিকিৎসকদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটি উপজেলার প্রান্তিক জনপদের লাখ লাখ মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র। এখানে ইনডোর, আউটডোর, সার্জারি, সিজারিয়ান সেবাসহ জটিল রোগীদের জন্য ১০ শয্যার এইচডিইউ (হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট) রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ের বিপর্যয় থেকে হাসপাতালকে রক্ষা করতে ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ডিজেলচালিত জেনারেটরটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের পর কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে বিগত আট বছরে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বরত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জেনারেটরটি সচল করতে ২০১৯, ২০২০, ২০২১ ও সবশেষ ২০২৪ সালে একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত অনুরোধ জানান।
বর্তমানে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ভর্তি থাকা শিশু ও প্রবীণ রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকেন। হাসপাতালে দুই বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে ভর্তি থাকা সাহেদা আক্তার নামে এক গৃহবধূ জানান, বিদ্যুৎ গেলে ওয়ার্ডে শুধু একটি মাত্র মৃদু আলো জ্বলে। বাধ্য হয়ে চার্জার লাইট কিনতে হয়েছে। কিন্তু ফ্যান না চলায় গরমে শিশুরা সারা রাত কান্নাকাটি করে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের পাটোয়ারী জানান, ২০১৮ সালে স্থাপনের পর থেকেই জেনারেটরটি অচল। দুই-তিনবার টেকনিক্যাল টিম এসেও এটি চালু করতে পারেনি। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন।