টেকনাফ

বাঁচানো গেল না পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটিকে

গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে গড়িয়ে পড়ে। ওপর থেকে নিচে পরে যাওয়ার সময় বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাতিটির পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটের কিছু অংশও কেটে যায়। পাহাড়টিতে এশীয় প্রজাতির অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে।

টানা বর্ষণের কারণে টেকনাফের পাহাড় থেকে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া মা হাতিটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রোববার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাইট্যাংপাড়ার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে গড়িয়ে পড়ে। ওপর থেকে নিচে পরে যাওয়ার সময় বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাতিটির পেছনের দুটি পা ভেঙে যায় এবং পেটের কিছু অংশও কেটে যায়। পাহাড়টিতে এশীয় প্রজাতির অন্তত ২৩টি হাতির বিচরণ রয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ের চূড়ায় গাছের পাতা ও লতাপাতা খাওয়ার সময় বৃষ্টিতে নরম হয়ে যাওয়া মাটি ধসে পড়ায় হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে যায়। এতে তার পেট কেটে যায়, পেছনের দুই পা ভেঙে যায় এবং সে আর হাঁটতে পারছিল না।

কর্মকর্তারা আরো জানান, হাতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট, উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট এবং বয়স প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। পরে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সহায়তায় হাতিটির চিকিৎসা শুরু হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, চিকিৎসার সব ধরনের চেষ্টা করা হলেও আজ রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বন বিভাগ জানিয়েছে, টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি বনাঞ্চলের ঢাল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে হাতিসহ বিভিন্ন বন্য প্রাণীর দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, শনিবার দুপুরে বিকট শব্দ ও হাতির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা রক্তাক্ত অবস্থায় মা হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার পেট থেকে রক্ত ঝরছিল এবং যন্ত্রণায় বারবার চিৎকার করছিল। দুটি পা ভেঙে গেছে বলেও মনে হচ্ছিল। পরে বন বিভাগের কর্মীরা এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো যায়নি।

আরও