বান্দরবানের রুমা উপজেলার বগালেক-কেওক্রাডং সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ জানিয়েছে, কিছু পর্যটক এখনো প্রশাসনের দেয়া ভ্রমণসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করছেন না। তবে নিহত দুই পর্যটকের ঘটনায় দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মো. জামির উদ্দিন (৩২) এবং ঢাকার লালবাগ এলাকার রোকাইয়া আক্তার (৩০)। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল সন্ধ্যার পর বগালেক-কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়। পরে রাতের দিকে স্থানীয় লোকজন, ট্যুরিস্ট গাইড ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দল ছয়টি মোটরসাইকেলে করে রুমায় যান। বিকালে তারা বগালেকের একটি ভিউ পয়েন্ট ঘুরে কটেজে ফিরে যান। পরে সন্ধ্যায় জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার আবার মোটরসাইকেলে ওই দিকে গেলে ট্যুরিস্ট গাইড প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমার কথা জানিয়ে তাদের সতর্ক করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে পাহাড়ি খাদে মোটরসাইকেল ও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, পর্যটক দলটির সদস্যরা সবাই আগে থেকে ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত ছিলেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি গ্রুপে বগালেক সফরের বিষয় তুলে ধরার পর আগ্রহীরা সাড়া দেন। জাকির ও রোকাইয়ার ভ্রমণে এসেই পরিচয়। নিহত জাকির ওই পর্যটক দলের এক দম্পতির স্বামীর বন্ধু। রোকাইয়াও আরেক দম্পতির স্ত্রীর বান্ধবী।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ও ঢালু সড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনার পর বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণকারী পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন চেকপোস্টে প্রশাসনের নির্দেশনা টাঙানো রয়েছে। এর পরও কিছু পর্যটক এসব নির্দেশনা অনুসরণ করছেন না। কেউ কেউ মূল সড়ক এড়িয়ে বিকল্প স্থানীয় সড়কও ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, পাহাড়ি সড়কে চলাচল সমতলের রাস্তার মতো নয়। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে দেয়া নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। রুমার দুর্ঘটনার বিষয়টিও প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ না করার অভিযোগের সঙ্গে সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওহাবুল ইসলাম।
জানা গেছে, গত বুধবার জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আলীকদম হয়ে আলীকদম-থানচি সড়কের ২১ কিলোমিটার অংশ দিয়ে তিন্দু বাজারে পৌঁছায় ৩২ পর্যটকের দুটি দল। পরে গতকাল পর্যন্ত থানচি উপজেলার তিন্দুমুখ পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার বিষয় জানিয়ে তাদের থানচি সদরে ফেরত পাঠায় তিন্দু বিজিবি ক্যাম্প।