দীর্ঘদিন
থেকে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছিলেন রংপুরের বিশিষ্টজনরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয়
এ নগরীর সাবেক সদর হাসপাতালের জমিতে নির্মাণ করা হয় ১০০ শয্যার
হাসপাতাল ভবন। ৩১ কোটি ৪৮
লাখ ৯২ হাজার ৮০৯
টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর নির্মাণকাজ
শেষ হয়। চার বছর কেটে গেলেও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে না হাসপাতালটি। আপাতত
বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালুর কথা জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক
ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী।
রংপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সাবেক সদর হাসপাতালের ১ দশমিক ৭৮ একর জমির মধ্যে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর। হাসপাতালের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮০৯ টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মল্লিক এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স অনিক ট্রেডিং করপোরেশন ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর কাজ শেষ করে। তিনতলা মূল হাসপাতাল ভবনের প্রতি তলার আয়তন ২০ হাজার ৮৮২ দশমিক ৯৭ বর্গফুট। এছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভিত্তির তিনতলা সুপারিনটেনডেন্ট কোয়ার্টার। সিঁড়ি বাদে প্রতি তলার আয়তন দেড় হাজার বর্গফুট। ছয়তলা ডক্টরস কোয়ার্টারের নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, দ্বিতীয় তলা থেকে ডাবল ইউনিট। আছে ছয়তলার স্টাফ অ্যান্ড নার্স কোয়ার্টার। বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনের জন্যও নির্মাণ করা হয়েছে একটি ভবন। ২০২০ সালের ৮ মার্চ হাসপাতাল ভবন হস্তান্তর করা হয়। কভিডের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় ভবনটিকে ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘১৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমের চালুর বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়েছে। সে-সংক্রান্ত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। আপাতত বহির্বিভাগের কার্যক্রম চালু হবে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিটিতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে নবনির্মিত ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য বলা হয়েছে। শিশু হাসপাতালটিকে অস্থায়ীভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্ধিত শিশু ওয়ার্ড অথবা শিশু বহির্বিভাগ হিসেবে চালুর অনুমতি দেয়া হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, ‘সবেমাত্র চিঠি পেয়েছি। এখন কার্যক্রম চালুর জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
এদিকে শিশু হাসপাতালের জন্য নির্মিত ভবনে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। এ কারণে ভবনটির অধিকাংশ কক্ষ অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালটির শিশু বিভাগে থাকা যৎসামান্য জনবল দিয়ে বৃহৎ এ অঞ্চলের চাহিদামতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল গড়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিশিষ্টজনরা, যেন শিশুর জটিল সার্জারিসহ সাধারণ সব রোগের চিকিৎসা স্বল্পমূল্যেই দেয়া সম্ভব হয় এবং ভোগান্তি কমে আসে।
শিশুবিশেষজ্ঞদের দাবি, রমেক হাসপাতালে একটি মাত্র শিশু বিভাগ দিয়ে এ অঞ্চলের চিকিৎসাপ্রত্যাশী সব শিশুকে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে শিশুদের জটিল সার্জারি ও সাধারণ সব ধরনের রোগের চিকিৎসা স্বল্প খরচে দেয়া যাবে। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা পাশের দেশে যাওয়ার প্রবণতাও কমে আসবে।
শুধু বহির্বিভাগ নয়, ১০০ শয্যা শিশু হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমাজ পরিবর্তন ও উন্নয়ন ফোরামের কোষাধ্যক্ষ মো. হুমায়ুন কবীর মানিক। তিনি মনে করেন, এটি চালু হলে এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।