গত এক মাসের টানা ভারি বর্ষণে পানিতে ভরে উঠেছে ফরিদপুর এলাকার নিচু জমি, খানাখন্দ ও পুকুরগুলো, যা পাট পচানোর জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে। কৃষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত পানি পাওয়ায় এবার পাটের আঁশ হবে উন্নত মানের ও উজ্জ্বল রঙের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে জেলায় দুই লাখ টনের বেশি পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারদর ছাড়াতে পারে ২ হাজার কোটি টাকা।
চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে খরার কারণে উৎপাদন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে ঘন ঘন বৃষ্টি ও জুলাইজুড়ে টানা বর্ষণে সেই শঙ্কা কেটে যায়। বরং এতে পাটের মান আরো উন্নত হওয়ার আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে চরভদ্রাসন ছাড়া বাকি আটটিতেই উল্লেখযোগ্য হারে পাট চাষ হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় আবাদি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশেই পাটের চাষ হয় এবং এ খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত পাঁচ লাখের বেশি কৃষক।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই পাট কাটার ব্যস্ততা। কেউ খেত থেকে পাট কাটছেন, কেউ তা আঁটি বেঁধে জাগ দেয়ার জন্য পানির ধারে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাগ দেয়া পাট তুলে আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারীসহ সব উপজেলাতেই এখন চলছে এ কর্মচাঞ্চল্য।
চাষীরা জানান, এবার নিচু জমিতে ফলন কিছুটা কম হলেও উঁচু জমিতে ফলন ভালো হয়েছে। অবশ্য উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে; মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় সেচ দিতে হয়েছে বারবার, যা খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের হিসাবে, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ পড়ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকার বেশি। ফলে ৫ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করতে হলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে কৃষকদের।
পাটচাষ সংশ্লিষ্টদের মতে, উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। ফরিদপুরের জলবায়ু এ অনুকূল পরিবেশ সরবরাহ করায় জেলা এখন দেশের শীর্ষ পাট উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘এবার চাষীরা পাটের উন্নত রঙ ও মান পাবেন বলে আশা করা যায়। পচনের সময় যথেষ্ট পানি থাকায় আঁশ ভালো হবে, বাজারদরও সন্তোষজনক থাকবে।’ তিনি জানান, জেলায় এবার দুই লাখ টনের বেশি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তা অর্জিত হলে বাজারমূল্য ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।