ঘন কুয়াশা কুড়িগ্রামে বাড়িয়েছে শীতের তীব্রতা

দিন যতই গড়াচ্ছে, কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনে তাপমাত্রা একটু উষ্ণ হলেও সন্ধ্যা হতেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ।

দিন যতই গড়াচ্ছে, কুড়িগ্রামে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। দিনে তাপমাত্রা একটু উষ্ণ হলেও সন্ধ্যা হতেই বাড়ছে শীতের প্রকোপ। রাত নামলেই বাড়তে থাকে ঘন কুয়াশা। গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মেলায় ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পুরো জেলা। এছাড়া গত ১৫ দিন জেলার তাপমাত্রা নেমে আসছে ১২-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।

স্থানীয় কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, আগামী কয়েক দিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এদিকে ভোর থেকেই কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে চলাচলে অনেকটাই বিঘ্ন ঘটছে। শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। অনেকেই প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে কাজে যেতে পারছেন না।

স্থানীয়রা জানায়, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্রের চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত সহায়তা এখনো পৌঁছেনি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের দিনমজুর মাহাবুব জানান, গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে জমিতে কাজ করতে কষ্ট হয়েছে। হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। আগের চেয়ে শীত বেড়েছে।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র পাড়ের আব্দুল জলিল বলেন, ‘তারা নদীপাড়ে বাস করেন। প্রতি বছর গরম কাপড়ের অভাবে শীতে কষ্ট পেতে হয়। এবারো শীত অনেক বেড়েছে। এখনই এ অবস্থা, সামনের দিনগুলোয় কী হবে জানি না। আরো শীত বাড়লে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হবে।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলায় শীত নিবারণের জন্য ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এটি এরই মধ্যে নয় উপজেলায় ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এ টাকায় কেনা কম্বল দিয়ে পর্যায়ক্রমে বিতরণের কাজ চলছে।

আরও