ঢাকায় পাতাল মেট্রোরেল

কাজ শুরুর প্রস্তুতি, চলছে ইউটিলিটি শনাক্তকরণ

এবার পাতাল মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার বিমানবন্দর-বাড্ডা-কমলাপুর সড়কের নিচ দিয়ে চলবে দ্রুতগতির ট্রেন। মেট্রোরেলের এ পাতালপথ নির্মাণের জন্য

এবার পাতাল মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার বিমানবন্দর-বাড্ডা-কমলাপুর সড়কের নিচ দিয়ে চলবে দ্রুতগতির ট্রেন। মেট্রোরেলের এ পাতালপথ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে সরকার। নির্মাণকাজ শুরুর আগে চলছে সড়কের নিচে থাকা বিভিন্ন সেবা সংস্থার সংযোগ লাইন চিহ্নিত করার কাজ। এগুলোর প্রয়োজনীয় স্থানান্তর সম্পন্ন হলেই শুরু হবে পাতালপথের নির্মাণকাজ। জুনেই ঢাকায় পাতাল মেট্রোরেলের কাজ শুরু করতে চায় ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ঢাকার প্রথম পাতাল মেট্রোরেল লাইনটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে এমআরটি-১ নামে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পাতালপথের পাশাপাশি নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার উড়ালপথও হবে একই প্রকল্পে। পুরো রোলিংস্টকসহ লাইনটি বানাতে খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাইকা। অবশিষ্ট ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে সরকার।

এমআরটি-১-এর পাতালপথের রুট বিমানবন্দর-বাড্ডা-মালিবাগ-রাজারবাগ-কমলাপুর। গতকাল সরেজমিন ঘুরে রুটটির বিভিন্ন স্থানে অভ্যন্তরীণ পরিষেবা শনাক্তের কাজ করতে দেখা গেছে। মালিবাগের চৌধুরীপাড়া এলাকায় সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে পরিষেবা শনাক্তের কাজটি করছেন এইচটি পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। তারা সড়কের বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে মাটির নিচে কোথায় কোন সংস্থার পরিষেবা লাইন রয়েছে সেগুলো বের করছেন। খুঁড়ে রাখা স্থানগুলো ঘিরে রাখা হয়েছে। এতে এসব স্থানে সড়ক সরু হয়ে এসেছে। যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। কখনো কখনো এ কারণে তীব্র যানজটও হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পাতাল মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য এখনো কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরামর্শক কাজের অংশ হিসেবে পরিষেবা শনাক্তের কাজটি করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে রয়েছে এনকেডিওএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে পরামর্শক সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে পাতাল মেট্রোরেলের জন্য পরিষেবা শনাক্তের বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি মেট্রোরেল-১ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সাইদুল হক।

পরে যোগাযোগ করা হলে ডিএমটিসিএলের একজন কর্মকর্তা জানান, এ প্রকল্পের জন্য এখনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। তাই কাজ শুরু হচ্ছে, এমনটি বলা ঠিক হবে না। তবে পরামর্শক কাজের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কাজ করার কথা জানান তিনি।

মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুটি অংশ। প্রথম অংশটি পুরোপুরি পাতালপথে। ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পাতাল অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। পাতালপথেই নির্মাণ করা হবে ১২টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হবে বিমাবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল পূর্ব, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ ও কমলাপুর।

অন্যদিকে কমলাপুর থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে উড়ালপথ, যার দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার। এখানে স্টেশন হবে নয়টি। এর মধ্যে উড়ালপথের ওপরই হবে সাতটি স্টেশন। নতুনবাজার ও বিমানবন্দর স্টেশন দুটি বিমানবন্দর রুটের অংশ হিসেবে পাতালপথে নির্মিত হবে। নতুনবাজার স্টেশনটি ব্যবহার হবে ইন্টারচেঞ্জ হিসেবে। আর উড়াল স্টেশন হবে বসুন্ধরা, পুলিশ হাউজিং, মাস্তুল, পূর্বাচল পশ্চিম, মধ্য পূর্বাচল, পূর্বাচল পূর্ব ও পূর্বাচল টার্মিনাল।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশের প্রথম পাতাল রেল নির্মাণের জন্য যত ধরনের সমীক্ষা ও জরিপের কাজ ছিল, সব শেষ করে আনা হয়েছে। মেট্রোরেল লাইন-১-এর জন্য বেসিক ডিজাইনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন চলছে ডিটেইল ডিজাইন তৈরির কাজ। কাজটি এরই মধ্যে ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। খুব দ্রুতই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আমরা দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করব। প্রথমে ডিপোর ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করার কথা জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমআরটি লাইন-১-এর জন্য নারায়ণগঞ্জের পিতলগঞ্জ ও ব্রাহ্মণখালী এলাকায় ডিপো গড়ে তোলা হবে। এজন্য প্রায় ৯৩ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় সব মিলে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেলের (এমআরটি লাইন-৬)। ২০৩০ সালের মধ্যে সব মেট্রোরেল লাইনের কাজ শেষ করতে চায় সরকার।

আরও