আগে ঘুস দিতে হতো এক লাখ, এখন দিতে হয় পাঁচ লাখ টাকা: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব বলেন, কোথাও কোনো সুশাসন নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। পুলিশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে রাতারাতি সংস্কার করে ফেলা সম্ভব নয়। এজন্য সময় লাগবে। গণতান্ত্রিক চর্চা বাদ দিয়ে বসে থাকা যাবে না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাকে এক বড় ব্যবসায়ী জানালেন আগে ঘুস দিতে হতো ১ লাখ টাকা, এখন দিতে হয় ৫ লাখ টাকা। শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান রচিত ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’ শীর্ষক বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, কোথাও কোনো সুশাসন নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই। পুলিশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে রাতারাতি সংস্কার করে ফেলা সম্ভব নয়। এজন্য সময় লাগবে। গণতান্ত্রিক চর্চা বাদ দিয়ে বসে থাকা যাবে না। কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। কোনো রকম বিলম্ব না করে অতি দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের প্রতিনিধিকে সংসদে পাঠিয়ে সংস্কার করতে হবে। উত্থান-পতন থাকবে। কিন্তু চলতে দিতে হবে। আমরা দলের পক্ষ থেকে ভিশন ২০৩০ করতে চাই। আন্দোলন চলাকালে রাষ্ট্র গঠনের ৩১ দফা দিয়েছি। আমরা এভাবে এগোনোর চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো আর অর্থনৈতিক কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন দরকার। তবে তার জন্য সময় লাগবে। গেল ১৫ বছরে গণতন্ত্র কথাটাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমাদের নেতাকর্মীরা গুম হন। এভাবেই রাজনীতির কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ একটা বড় বিষয়। তখন আমাদের অনেক আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা পূরণ হয়নি। গণতন্ত্র সঠিকভাবে চলতে পারেনি। চলতে দেয়া হয়নি।

দেশবাসীর হতাশ হওয়ার খুব বেশি কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কথা আসছে। এই মাধ্যম সমাজকে গ্রাস করে ফেলছে। মব তৈরি হচ্ছে এর মাধ্যমে।

আরও