সিএনজি অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব

নওগাঁয় বাস চলাচল শুরুর একদিন পর ফের বন্ধ

বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলার শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারে না। কিন্তু এ নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এতে প্রায়ই বাসশ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে

অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে চলাচল চালুর একদিন পর নওগাঁয় অভ্যন্তরীণ রুটে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহনশ্রমিকরা। গতকালজেলার বদলগাছী উপজেলায় বাসচালককে মারধরের প্রতিবাদে আজ সকাল সাতটা থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বাস মালিক ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠে, এর জেরে ওই দিন নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক সুপারভাইজারকে মারধরের করেছেন একদল সিএনজিচালক। আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এর প্রতিবাদে এবং ঘটনার বিচার ও মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে রোববার সকাল থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহনশ্রমিকেরা। পরে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা শেষে সোমবার রাতে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত হয়। গতকাল জেলার সব রুটে বাস চলাচলও শুরু হয়। তবে এদিন বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস গেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা ওই বাসের চালককে মারধর করেন। এ অভিযোগে বুধবার সকাল সাতটা থেকে আবারো বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলার শহরের বাইরে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারে না। কিন্তু এ নিয়ম অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল করছে। এতে প্রায়ই বাসশ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

বাস বন্ধ থাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজশাহীসহ দূরের গন্তব্যে যেতে অনেকে সিএনজি, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভাড়া নেয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

রাজশাহীগামী যাত্রী সবুজ হোসেন বলেন, স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নিয়ে যাব। বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনলাম বাস বন্ধ। এখন এত দূরের পথ কীভাবে যাব, বুঝতে পারছি না। সিএনজিচালকরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে বাস বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে যাবে।

পোরশা থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা তারিক হোসেন বলেন, সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর জানতে পারি বাস চলাচল বন্ধ। আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য তিন দফা বিকল্প যানবাহন বদল করে নওগাঁয় এসেছি। এতে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া লেগেছে। সময়ও অনেক বেশি নষ্ট হয়েছে। দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা দরকার।

নওগাঁ জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো আমাদের লিখিতভাবে দেয়া হয়নি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে দেয়া হলে আজ থেকেই বাস চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে বাস চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে তাদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে। আশা করি খুব দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।

আরও