খুলনা নগরের লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি মাসে জেলায় অন্তত ৫টি খুনের ঘটনা সংবাদে এসেছে।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকায় নাজমুল (১৮) নামের আরেকজনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাকে কখন গুলি করা হয়, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম আশিবিঘা এলাকার খোকন সানার ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। নাজমুল একই এলাকার মনির শেখের ছেলে। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলা হয়। বুধবার বিকালে সেখানে ফুটবল খেলা নিয়ে মঞ্জুরুলের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। খেলা শেষে মঞ্জুরুল তার এক বন্ধুকে নিয়ে আশিবিঘা কালভার্টের পাশে বসেছিলেন। এসময় কয়েকজন সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে মঞ্জুরুলের আবারো কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা মঞ্জুরুলকে গুলি এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে শুধু ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা, বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, আশিবিঘা এলাকায় সাইফি গ্রুপ ও রাজু গ্রুপ নামের দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের তৎপরতা ও বিরোধের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। মঞ্জুরুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো গ্রুপের সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘা এলাকার আরেক প্রান্ত থেকে নাজমুল (১৮) নামের এক তরুণের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। তার বাবার নাম মনির শেখ। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে গুলির খোসাও পাওয়া গেছে।
নাজমুলের বাবা মনির শেখ জানান, বুধবার বিকাল চারটার দিকে চুল কাটিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন নাজমুল। এ সময় তিন-চারজন মুখোশধারী যুবক নাজমুলকে ডেকে নিয়ে যায় বলে তিনি জানতে পারেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে নাজমুলকে খুঁজতে থাকেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘা এলাকায় গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তিনি ছেলে নাজমুলের বলে শনাক্ত করেন।
মনির শেখ বলেন, কেন নাজমুলকে হত্যা করা হয়েছে এটি বুঝতে পারছেন না তারা।
লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, নাজমুলের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এর আগে ১৮ আগস্ট দুপুরে নগরের রায়েরমহলে রাজু নামের এক যুবক পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে মীর মামুন নামের এক যুবককে মাথায় গুলি করার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
১৫ আগস্ট রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের দুর্জনি মহল-শহীদের মোড় এলাকায় জয় ঢালি (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ১১ আগস্ট রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের কিসমত খুলনা গ্রামে ইটভাটার মধ্যে ফখরুল শেখ নামের এক যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনায় একের পর এক হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘঠিত হলেও মূল অপরাধীরা শনাক্ত এবং গ্রেফতার হচ্ছে কম।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাগজে-কলমে পুলিশের কাছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা রয়েছে। অভিযানও চলে। মাঝেমধ্যে গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের কথাও জানানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারীরা অধরাই থেকে যায়। কেউ গ্রেফতার হলেও কিছুদিন পর জামিনে বেরিয়ে আসে।