এখানে কর্মকর্তা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুমোদিত ৩৮ হাজার ৯৫৩টি পদের মধ্যে ৬ হাজার ৪৪৯টি পদ শূন্য। সহকারী ও প্রধান শিক্ষকের পদে জনবল সংকট প্রকট। এ অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৩৭ হাজার ৯৭৮টি পদের মধ্যে শূন্যপদ ৪ হাজার ৮৯২টি। এখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট ১ হাজার ৫টি পদের মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ৫৫২। প্রকট জনবল সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও গতি কমে যাচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্যপদে নিয়োগের দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।
তথ্যানুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ হাজার ২৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৭ শিক্ষার্থী পাঠ গ্রহণ করছে। এ বিদ্যালয়গুলো মনিটরিংয়ে কাজ করে ছয়টি জেলা ও ৪২টি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিস। এ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিস মিলিয়ে কর্মকর্তা, শিক্ষক-কর্মচারীদের মোট অনুমোদিত পদসংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৫৩। এর মধ্যে কর্মরত ৩২ হাজার ৫০৪ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৪৯।
সবচেয়ে বেশি সংকট শিক্ষক পদে। পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৩৭ হাজার ৯৭৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৩২ হাজার ৬৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৯২। অর্থাৎ সব মিলিয়ে শিক্ষকের মোট পদের মধ্যে প্রায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ শূন্য রয়েছে।
পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুমোদিত ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৮ জন; শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। অর্থাৎ পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মোট পদের ৪০ শতাংশ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে ৬ হাজার ২৪১টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২ হাজার ৯৯৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ২২৫। প্রধান শিক্ষক পদের প্রায় ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের ৩১ হাজার ৭০৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২৯ হাজার ৫২ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ৬৫৫। অর্থাৎ সহকারী শিক্ষক পদের প্রায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৭ জন সহকারী শিক্ষক ‘চলতি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পর্যায়ে ছয়টি ও উপজেলা পর্যায়ের ৪২টি শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট ১ হাজার ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫৩ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৫৫২। অর্থাৎ মোট পদের প্রায় ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ শূন্য রয়েছে। চাহিদার তুলনায় নগণ্য পদ মঞ্জুর করা হলেও অফিস সহায়ক ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট পদেও বড় ঘাটতি রয়েছে।
এর মধ্যে উপজেলা ও থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ২৫১টি পদের মধ্যে ১৩৫টি শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ছয়টি পদের মধ্যে একটি শূন্য রয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ১২টি পদের মধ্যে চারটি খালি। সহকারী মনিটরিং অফিসারের ছয়টি পদের মধ্যে তিনটি শূন্য। সহকারী ইনস্ট্রাক্টর (রিসোর্স সেন্টার) পদে ৪১টির মধ্যে ৩৯টি পদ খালি; যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রেও সংকট তীব্র। সাধারণ ইনস্ট্রাক্টর পদের ৭০টির মধ্যে ৩৪টি শূন্য। বিজ্ঞান ও চারু-কারু ইনস্ট্রাক্টর পদের প্রতিটিতে পাঁচটির সবই শূন্য। কৃষি ও শারীরিক শিক্ষা ইনস্ট্রাক্টর পদের পাঁচটির মধ্যে চারটি করে শূন্য রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ইনস্ট্রাক্টরের পাঁচটির মধ্যে তিনটি পদ খালি। ফলে প্রায় সব শাখায়ই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অফিস সহায়ক ও প্রশাসনিক সহায়তামূলক পদেও একই চিত্র। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের ১১৮টির মধ্যে ৮৯টি শূন্য। অফিস সহায়ক পদের ১১১টির মধ্যে ৯৭টি খালি। ক্যাশিয়ারের সাতটি পদের সবই শূন্য রয়েছে। হিসাব সহকারীর ৪১টির মধ্যে ২৬টি এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ৪২টির মধ্যে ২২টি পদ খালি। চালকের আটটির মধ্যে সাতটি পদ শূন্য। এছাড়া মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ছয়টি করে পদের সবই শূন্য রয়েছে।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শূন্যপদের প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাজেও গতি কমেছে।’
প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, ‘জনবল সংকটে কাজের গতিশীলতা কমে যায়। শূন্যপদগুলো পূরণে কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। তবে নিয়োগসংক্রান্ত মামলা থাকায় শূন্যপদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে।’