সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের এক দফা আদায়ে অবরোধ কর্মসূচিতে
বাধা প্রদান ও হামলার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
(জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়
গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন তারা। পরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ
করে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে শহীদ মিনারে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এটি শেষ হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘৭১ এর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘১৮ এর হাতিয়ার
গর্জে উঠো আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে
আগুন লেগেছে’, ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে,
কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক
আরেকবার’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি
স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের
শিক্ষার্থী আব্দুর রশিদ জিতুর সঞ্চালনায় ইংরেজি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আলিফ
মাহমুদ বলেন, আমাদের এ আন্দোলন কোনো বিচ্ছিন্ন আন্দোলন নয় বরং একটি ধারাবাহিক যৌক্তিক
আন্দোলন। কোটার যৌক্তিক সংস্কারে সংসদে আইন পাসের দাবিতে এ আন্দোলনকে পুলিশ দিয়ে-পেটোয়া
বাহিনী দিয়ে মারধর করে, গ্রেফতার করে দমিয়ে রাখা যাবে না।
পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম বলেন, সারা দেশে গতকাল
বৃহস্পতিবারের অবরোধ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু
পুলিশ-প্রশাসন বাধা দিয়েই বসে থাকেনি বরং সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় হামলা করেছে। কোথাও
কোথাও আমাদের ভাইদের গ্রেফতারের খবর পেয়েছি। এভাবে কয়জনকে গ্রেফতার করবেন, কয়জনকে মারধর
করবেন? এসব হামলা-মামলা করে কোনোভাবেই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী
তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম ও একই বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল প্রমুখ।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এক দফা দাবি হলো- সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে
অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে
নূন্যতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে
বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার করা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) এক দফা আদায়ে সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি
পালন করে শিক্ষার্থীরা। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের
ওপর হামলা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিছিলে বাধা দেয়ার অভিযোগ
উঠেছে।