মাছ চাষের জন্য ইজারা নিয়ে লেক ভরাট করে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইজারা শর্ত লঙ্ঘন করে প্রাকৃতিক লেক ভরাট করে ব্যক্তিমালিকানায় নির্মাণ করা হচ্ছে আনন্দ-বিনোদন পার্ক।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা জিকে কলোনিসংলগ্ন ও রেস্ট হাউজের পেছনে ব্রিটিশ আমলের এ প্রাকৃতিক লেকের সামনের বৃহৎ অংশ বালি ভরাট করে তড়িঘড়ি চলছে পার্ক নির্মাণের কাজ। শুধু মাছ চাষের জন্য লেকটির গ্রহীতা মানছে না ইজারার শর্ত। ফলে পরিবেশ-প্রতিবেশ বিনষ্ট ও পানিপ্রবাহ বন্ধ করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পার্ক নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইজারাগ্রহীতার বিরুদ্ধে। এদিকে দিনদুপুরে বালি ভরাটসহ তড়িঘড়ি পার্কের নানা স্থাপনা নির্মাণ শুরু হলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নীবর থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, ভরাট করা এলাকায় বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা, পানির ফোয়ারা, সুইমিং পুল এবং রাইড নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ ও খননের মাধ্যমে লেকের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লেকটি শুধু জলজ প্রাণীর আবাসস্থল নয়, আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। লেকের আয়তন সংকুচিত হলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়বে।

ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, জিকে কলোনির পেছনের প্রাকৃতিক লেকটি ভরাট করে পার্ক স্থাপিত হলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। বৃহদায়তনের এ লেকটি রক্ষায় সরকারের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।

পরিবেশকর্মী এসআই সোহেল বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করার সুযোগ দেয়া উচিত নয়। প্রশাসনের উচিত দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ করে বিষয়টি তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিরুল আরাফাত জানান, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জাহিদুর রহমান জানান, লেকটি কেবল মাছ চাষের জন্যই ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা লেকের ভৌত কাঠামো পরিবর্তন করা বেআইনি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে লিজ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও