কুমিল্লার খিরাই নদের বেইলি সেতু

পাটাতন ধসে পড়ার দুই মাসেও সংস্কার নেই

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুর বিভিন্ন অংশের পাটাতন ভেঙে পড়েছে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুর বিভিন্ন অংশের পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে জেলার দাউদকান্দিসহ পাশের চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ কচুয়া উপজেলার একাংশের অন্তত ২৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রায় দুই মাস আগে পাটাতন ভেঙে নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়ে দিন-রাত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন পথচারীরা চলাচল করছেন। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুই মাসে সেতু সংস্কার না করায় এলাকার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সরেজমিনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ভুক্তভোগী লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ কচুয়া উপজেলার মধ্যে সহজ সড়ক যোগাযোগের জন্য প্রায় ২০ বছর আগে খিরাই নদের ওপর বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তারা জানান, দাউদকান্দির খামারপাড়া, ধারিবন, চশই, চক্রতলা, ভরণপাড়া, পালপাড়া, কাটারাপাড়া, ধনেশ্বর এবং চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বকচর, পিতাম্বর্দী, ষোলদানা, কাচিয়ারা, নন্দীখোলা, খিদিরপুর, দাশেরবন্দর কচুয়া উপজেলার মালিগাঁও, মধুপুর, বরদৌল, ফতেবাপুর, রান্দবপুর, আটমোর, শুয়ারুক, বেরকোটাসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দারা খিরাই নদের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে, কিন্তু সেতুর বিভিন্ন অংশের লোহার পাটাতনে মরচে ধরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে যান চলাচল করছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা অন্য কোনো ছোটখাটো যানবাহন উঠলেই সেতু দুলতে থাকে। এতে যানবাহন চালক, যাত্রী পথচারীদের মাঝে এই বুঝি সেতুটি ভেঙে পড়ছে এমন আতঙ্ক দেখা দেয়। বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেতুটি পারাপার হতে হয়। চক্রতলা গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নান, নন্দীখোলা গ্রামের মনির হোসেনসহ অন্তত ১৬ জন চালক বলেন, যাত্রীসহ গাড়ি নিয়ে সেতুতে ওঠা যায় না, খালি গাড়ি নিয়েও পারাপার হতে হতে ভয়ে থাকতে হয়। মরিচায় নষ্ট হওয়া সেতুর পাটাতন ভেঙে গাড়ি যেকোনো সময় নদে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা নিয়ে গাড়ি চালাই। সেতু অতিক্রম করতে গিয়ে দেবে যাওয়া পাটাতনে আটকে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

দাউদকান্দির ধারিবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূরুল আলম, চশই উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র শাহনেওয়াজ পাটোয়ারি, খিদিরপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন, ষোলদানা গ্রামের মাসুক মিয়া বলেন, সেতুটির দুই পাশের দুই জেলার তিনটি উপজেলার ২৫-৩০টি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা সেতু। চার-পাঁচটি স্থানে পাটাতন দেবে যাওয়া সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে, লোকজন আহত হচ্ছেন।

কাচিয়ারা স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র শাহজালাল, ময়নালসহ কয়েকজন জানান, সেতুটি দিন দিন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গিয়েছে। নড়বড়ে সেতু দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালকদের সতর্ক করতে তারা নিজ উদ্যোগে গাছের ডালের সঙ্গে কাপড় টাঙিয়ে দিয়েছেন। জনদুর্ভোগ দুর্ঘটনা নিরসনে তারা অবিলম্বে সেতুটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

মারুকা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ভূঁইয়া জানান, বেইলি সেতুটি নড়বড়ে। দেবে যাওয়া পাটাতনে আটকে দুর্ঘটনাও ঘটছে। সেতুটি সংস্কারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. আফসার হোসেন খন্দকার বলেন, সরেজমিনে গিয়ে বেইলি সেতুটি পরিদর্শন করে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও