চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ৩২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৬৪জন। আর গত ১ জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২৪ শিশু। এরমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হচ্ছে।
এ পর্যন্ত যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। নিহতরা হলো—মারিয়া (নয়াগোলা), সাইফা (পৌরসভা এলাকা), আরিয়ান (চামাগ্রাম), ইমাম মাহমুদ (শিবগঞ্জের রানিহাটি) ও সারিকা (বারঘরিয়া লক্ষ্মীপুর)।
হামের বিস্তার ঠেকাতে জেলার তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জনকে টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে তিনটি স্থায়ী ও ৩৬টি অস্থায়ী কেন্দ্রে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
জেলার সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত টিকা মজুদ রয়েছে। নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার ডোজ টিকাও সংরক্ষিত আছে।
শিশুদের দ্রুত টিকা দেয়ার পাশাপাশি জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তকর্তারা।