বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির হিসেবে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প বিশ্বের কাছে পরিচিত। এ ক্যাম্পের ওপর থেকে চাপ কমাতে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা সরকারের। যদিও কারিগরি সমীক্ষা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করে তার আগে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতিসংঘ। তবে সংস্থাটিকে ভাসানচরে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের ওপর রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোপ রয়েছে এখানে। চলমান কভিড-১৯ মহামারী এ ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ায় এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ২৬০ জনের মতো। আর এ রোগে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। নিরাপত্তা, সামাজিকসহ সার্বিক বিবেচনায় এ ক্যাম্পের ঝুঁকি কমাতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাংলাদেশের। এরই মধ্যে চলতি বছর সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৩০৬ জন রোহিঙ্গা বর্তমানে ভাসানচরে বসবাস করছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের কারিগরি সমীক্ষা দল নিয়ে ভাসানচরে যাওয়ার কথা ছিল সরকারের। তবে যাত্রার দিনই সকালে তা স্থগিত করা হয়। এরপর সেখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংস্থাটির কাছে জানতে চায় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুরো দ্বীপের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, জীবন সম্ভাব্যতার কারিগরি সমীক্ষার টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সরকারের কাছে জমা দেয় সংস্থাটি। তবে এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জাতিসংঘকে কিছু জানানো হয়নি।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, সরকার আমাদের যেসব শর্ত পূরণ করতে বলেছে, তার সবই আমরা করেছি। সরকারের চাহিদামতো টিওআরও জমা দেয়া হয়েছে। সেই অনুমতি এখনো আমরা পাইনি। তবে সরকার থেকে আমাদের সমালোচনা করা হয় যে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ যেতে দিচ্ছে না।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘদিন নৌকায় ভেসে থাকা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করে তাদের ভাসানচরে রাখা হয়। এ ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে রাখার কারণে সেখানে মানবিক সহায়তা নিয়ে যেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানায় জাতিসংঘ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরো একটি টিওআর সরকারের কাছে জমা দেয় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তবে তারও কোনো উত্তর এখনো বাংলাদেশ সরকার থেকে দেয়া হয়নি।
ভাসানচরে জাতিসংঘের যাওয়ার অনুমতি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের সহকারী কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার মোস্তফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, কয়েক মাস আগে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে ভাসানচরে কারিগরি সমীক্ষা ও ভাসানচরে ৩০৬ জন রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য টিওআর দিয়েছে। তবে এখনো আমরা উত্তরের জন্য অপেক্ষায় রয়েছি।