মধ্যরাতে চলে নির্যাতন, গণরুম বাতিলে আল্টিমেটাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গণরুম বাতিলসহ চারদফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় গণরুম বাতিল করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে বৈধ সিট দেয়ার জন্য প্রশাসনকে ১ মার্চ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন তারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গণরুম বাতিলসহ চারদফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় গণরুম বাতিল করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে বৈধ সিট দেয়ার জন্য প্রশাসনকে ১ মার্চ পর্যন্ত আল্টিমেটাম দেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি অমর একুশে, টারজান পয়েন্ট, চৌরঙ্গী হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে চারদফা দাবি পেশ করেন আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলো হলো অবিলম্বে গণরুম সংস্কৃতি বিলোপ করে শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট নিশ্চিত করা, অবৈধ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বহিষ্কার করা, নতুন সব হল চালু করে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং ভর্তূকি দিয়ে ডাইনিংগুলো কে মানসম্মত করা। 

এসময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, ‘প্রশাসন বলেছিল গণরুম নাকি জাদুঘরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে গণরুম জাদুঘরে পরিণত হয়েছে। এখানে কি হচ্ছে বা হয় তা সকলেই জানে। ম্যানার শেখানোর নামে অমানবিক নির্যাতন করে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গণরুমে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য না আছে ঘুমানোর ব্যবস্থা, না আছে পড়াশোনার পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের বহু আকাঙ্খিত স্বপ্নের অন্তরায় এই গণরুম। তাদের মাঝে নোংরা চিন্তাধারা প্রবেশ করিয়ে কৃতদাস বানিয়ে ফেলছে। অবিলম্বে আপনারা যদি এই নবীন শিক্ষার্থীদের নিজের সিট বুঝে না দিতে পারেন তাহলে আপনাদের প্রশাসনে থাকার কোনো অধিকার নেই।’

দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ‘আমি শহীদ রফিক জব্বার হলের গণরুমের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। আমরা হলের একটি কক্ষে ৪৬ শিক্ষার্থী একসাথে থাকি। মাঝরাতে সিনিয়র এসে ম্যানার শেখানো নামে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ অমানবিক নির্যাতন করে। নানা ধরনের বাধ্যবাধকতা দিয়ে থাকে। আমরা ক্যান্টিনে, ডাইনিংয়ে খেতে পারি না। যা আমাদেরকে মানসিক বিকারগ্রস্ত করে তুলছে।’ 

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সৌমক বাগচী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্বপ্নের জায়গা। স্বপ্নের জায়গায় এরকম অমানবিক নির্যাতন আশা করা যায় না। আমরা প্রত্যেকে এই নিকৃষ্ট প্রথার বিলুপ্তি চাই। শিক্ষকদের জন্য বিভিন্ন রকমের আবাসিক সোসাইটি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করে আপনারা চলে যান। আর শিক্ষার্থীরা এ ময়লার ভাগাড়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আমরা শিক্ষার্থী আমরা শিখতে এসেছি আন্দোলন করতে নয়। এসব অনিয়ম, অমানবিক নির্যাতন বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বৈধ সিট দিতে দেরি করলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশফার রহমান নবীনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য দেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমর্ত্য রায়, চলচিত্র আন্দোলনের কর্মী সিল্কি নুর প্রমুখ। এসময় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আরও