ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি: জোনায়েদ সাকি

জোনায়েদ সাকি বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নিরসন করা। যে সরকার ও শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, আমরা সেই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করছি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে গেলেও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি।

আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে দরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার নিরসন করা। যে সরকার ও শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, আমরা সেই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করছি।

তিনি বলেন, আমরা এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে নাগরিক হিসেবে সবাই আত্মমর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ, জনগণের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা সংগ্রাম করে আসছি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্পন্ন করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের এ নেতা আরো বলেন, ৫৪ বছরে মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের দেশে বিভাজন তৈরি করেছে, কীভাবে আমাদের দেশের মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে, কীভাবে আমাদের দেশে ধর্ম, জাতি, লিঙ্গীয় পরিচয়ের দিক থেকে যারা ক্ষমতার মধ্যে প্রান্তিক হয়ে যান, যারা সংখ্যায় কম, তাদেরকে নিপীড়নের শিকার করা হয়েছে, একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের জীবনে- এগুলো মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা বলে না।

এ সময় আরো ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক কুমার রায়, কেন্দ্রীয় সদস্য মিজানুর রহমান মোল্লা, পেশাজীবী সংহতির সংগঠক রুম্মন সিদ্দিকী, সাভার থানা সমন্বয়ক এফ এম নুরু, আশুলিয়া থানা সংগঠক রোকনুজ্জামান মনি, মিরপুর অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন তালুকদার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী, ছাত্র ফেডারেশন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রুপক, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজীসহ ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন থানা ওয়ার্ডের নেতারা।

আরও