প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশালে ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলএসটি) স্থাপন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় মহানগরীর আমানতগঞ্জে সরকারি হাঁস-মুরগির খামারের অভ্যন্তরে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করে ভূমি মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর ওই বছরেরই শেষে কাজও শুরু হয়। তবে ২০২২ সালের জুনে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন বলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।
এর পরই মূলত প্রকল্পটি নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতা। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দিয়েই সব দায়িত্ব শেষ করে। প্রায় তিন বছর চুপ থাকার পর সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী বরিশাল থেকে প্রকল্পটি সরিয়ে পিরোজপুরের নাজিরপুরে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এটি এখন পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমতির জন্য চিঠিও দেয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তর করলে ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি নির্মাণসহ সার্বিক ব্যয় অন্তত ১০ কোটি টাকা বাড়বে বলে মনে করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করা হলে সবাই সিটি মেয়রের মৌখিক নির্দেশে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন বলে স্বীকার করেন। অথচ একই প্রকল্পের আওতায় সিলেট ও লালমনিরহাটে অন্য দুটি ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো নির্মাণকাজ ৬৫ শতাংশের বেশি শেষ হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সিটি মেয়রের মৌখিক নির্দেশে বরিশালে আইএলএসটির অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরুই করতে পারিনি। অথচ একই প্রকল্পের আওতায় সিলেট ও লালমনিরহাট আইএলএসটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে আসছে। তাই প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।’
তবে সিটি মেয়রের সিদ্ধান্তটি দাপ্তরিক ছিল কিনা তা তিনি বলতে পারেননি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কোনো চিঠি দেয়া হয়েছে কিনা তাও জানেন না তিনি।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র প্রাণিসম্পদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার এ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। অথচ সরকারি হাঁস-মুরগির খামার ছাড়াও নগরীর উপকণ্ঠে ৫০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি ডেইরি ফার্মে অব্যবহৃত জমিতেও ইনস্টিটিউটটি গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
বরিশাল নাগরিক সমাজের এনায়েত হোসেন সিবলু বলেন, বরিশালে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউটটি নির্মিত হলে দুধ, ডিম ও মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাতের আরো উন্নতি হতে পারত। একাধিক একাডেমিক ভবন এবং ছাত্রছাত্রী হোস্টেল ছাড়াও অফিস ভবন, টিচার্স ডরমেটরি, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, হেলথ কেয়ার সেন্টার ছাড়াও একটি অত্যাধুনিক প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল স্থাপনের কথা রয়েছে এ প্রকল্প এলাকায়।’
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, ‘প্রকল্পটি অন্যত্র স্থানান্তরে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে শুনেছি। যেহেতু বরিশালের মানুষ এটা স্থানান্তর চায় না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব। প্রকল্প পরিচালক চাইলেই পুনরায় কাজ শুরু করতে পারেন। তার ভেবে দেখার সুযোগ রয়েছে।’