রাজশাহীতে তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

তীব্র গরমে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। জীবন-জীবিকার জন্য যারা বেরিয়েছেন, তারাও রোদ থেকে বাঁচতে খুঁজছে ছায়া বা একটু শীতল স্থান। সাধারণ পথচারী ও রিকশাচালকদের দেখা গেছে ছোট-বড় গাছ কিংবা উঁচু উঁচু দালানের পাশ ঘেঁষে দাঁড়াতে। তীব্র গরম সহ্য না করতে পেরে অনেকেই বার বার মাথা ও হাত-মুখ ধুয়ে নিচ্ছেন।

সপ্তাহ খানেক ধরে কাঠফাটা রোদ আর গরমে নাকাল রাজশাহীবাসী। তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, শহরের দোকানী, খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। এমন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেকেই অসুস্থ হয়ে ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। তাদের মধ্যে শিশু, বৃদ্ধ ও মধ্যবয়সী মানুষেরা সংখ্যা বেশি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র গরমে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। জীবন-জীবিকার জন্য যারা বেরিয়েছেন, তারাও রোদ থেকে বাঁচতে খুঁজছে ছায়া বা একটু শীতল স্থান। সাধারণ পথচারী ও রিকশাচালকদের দেখা গেছে ছোট-বড় গাছ কিংবা উঁচু উঁচু দালানের পাশ ঘেঁষে দাঁড়াতে। তীব্র গরম সহ্য না করতে পেরে অনেকেই বার বার মাথা ও হাত-মুখ ধুয়ে নিচ্ছেন।

রাজশাহী সবচেয়ে বড় হাট ও কাঁচাবাজার বসে নগরীর খড়খড়ি এলাকায়। সাধারণত এ হাটটি ক্রেতায় পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে চলা তাপপ্রবাহের কারণে হাটটি এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। ভোরের দিকে পাইকারি ও কিছু খুচরা ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খালি হয়ে পড়ছে চারপাশ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা।

খড়খড়ি হাটে ছাতা হাতে সারি সারি আমের ক্যারেট নিয়ে বসেন সোমেন মন্ডল। বণিক বার্তাকে তিনি জানান, গরমের জন্য মানুষের খাওয়া-দাওয়া কম। তাই বেচা-কেনাটাও কম। গরমের কারণে মানুষ বাজারে আসছে না। আমরাও থাকতে পারছি না। লোকসান করে হলেও আম বিক্রি করতে পারছি না। আম নেয়ার লোকই তো নেই।

অদূরেই ছোট-বড় মাছের পশরা সাজিয়ে বসেছে নাঈম হোসেন। তিনি বলেন, গরমে খুব সমস্যা। সকালের দিকে কিছু কাস্টমার হয়েছিল। বেলা যেতে না যেতেই বাজার একেবারে ফাঁকা। ক’দিন ধরেই এমন হচ্ছে। তাই মাছ কম করে আনছি। তারপরও থেকে যায়।

আরো বেহাল অবস্থায় রয়েছেন বাজারের মুরগি ব্যবসায়ীরা। মিলন শেখ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, অতিরিক্ত গরেম মারা যাচ্ছে মুরগী। ক্রেতাও নাই। এই গরমে মুরগীর ব্যবসা করা কঠিন। বিশেষ করে বয়লার মুরগী টিকছে না। ক্রেতা থাকলে হয়ত এমন সমস্যা হত না।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে রাজশাহীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ, দুপুরে তা দাঁড়ায় ৬৫ শতাংশে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, সকাল থেকে মেঘের কিছুটা আনাগোনা রয়েছে। গতকালও এমন পরিবেশ ছিল। তাই ধারণা করা হচ্ছে শনিবার দুপুরের কিংবা বিকেলে রাজশাহীসহ আশপাশের কিছু জেলায় হালকাসহ ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে প্রাণ-প্রকৃতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া কিংবা হালকা ঝড়, বৃষ্টি সহ বজ্রপাত হলেও পরিবেশ থাকবে তপ্ত। সপ্তাহ খানেক এমন বৈরী পরিবেশ থাকবে।

এদিকে তীব্র দাবদাহে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালেও ক্রমেই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। অধিকাংশই আসছেন জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে। আসছেন হিটস্ট্রোকের রোগীও।

রামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, গত চার দিনে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন শিশু এবং বাকিরা প্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের বেশিরভাগই কিন্তু ডায়ারিয়া এবং শর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে ওষুধ, স্যালাইনসহ বিভিন্ন পথ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি এবং সেবাদান চলমান রয়েছে।

আরও