বলা হয় উন্নয়নশীল দেশের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও অনেকটা সেই সিসিফাসের মতো। আর সিসিফাসের সংগ্রাম যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী রূপক। এটি এমন এক বাস্তবতা, যেখানে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অবিরাম প্রচেষ্টার পরও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ঋণের চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে তা অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং সীমিত সম্পদ দিয়ে অসীম চাহিদা পূরণের যেন এক ‘সিসিফাস সিনড্রোম’।
উন্নয়নশীল দেশের বাজেটের ক্ষেত্রে ‘সিসিফাসের মতো’ চ্যালেঞ্জ বলতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরন্তর সংগ্রামকে বোঝায়। এ রকম অর্থনীতিতে অর্জিত সাফল্যের বড় অংশই নতুন সংকট, কাঠামোগত দুর্বলতা কিংবা বাহ্যিক অভিঘাতের কারণে বারবার ক্ষয়ে যায়। এ চক্রাকার সংকটের অন্যতম কারণ রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্যহীনতা। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের করভিত্তি তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ, কর প্রশাসন দুর্বল এবং অর্থনীতির বড় একটি অংশ করের আওতার বাইরে থাকে। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যয়ের চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়। বাজেট ঘাটতি পরিণত হয় স্থায়ী বাস্তবতায়।
ঘাটতি পূরণ করতে সরকারকে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়। শুরুতে ঋণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহায়ক হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকে। বৈশ্বিক সুদের হার বৃদ্ধি কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়। তখন নতুন অবকাঠামো, শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরিবর্তে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হয় পুরনো ঋণের দায় পরিশোধে। তখন উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদে টান পড়ে এবং অর্থনীতি ঋণচক্রে আটকে যায়।
বৈশ্বিক অভিঘাতও উন্নয়নশীল দেশের বাজেট ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, যুদ্ধ কিংবা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মতো ঘটনা খুব দ্রুত উন্নয়নশীল একটি দেশের আর্থিক পরিকল্পনাকে বিপর্যস্ত করতে পারে। একইভাবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয়ে বাধ্য করে। এতে পূর্বনির্ধারিত বাজেট পরিকল্পনা ব্যাহত হয়।
অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ব্যাপক উপস্থিতিও বড় সমস্যা। উন্নয়নশীল দেশে বিপুলসংখ্যক উপার্জনকারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে থাকে। ফলে কর আহরণের সুযোগ সীমিত হয়। এতে রাজস্বের পূর্বাভাস দুর্বল হয় এবং বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
বৈদেশিক ঋণ ও আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। স্থানীয় মুদ্রার মান কমে গেলে আমদানীকৃত পণ্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে সরকারকে উন্নয়ন ব্যয় কমানো, নতুন কর আরোপ বা অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ওপরের অনেক লক্ষণই দৃশ্যমান। এমন জটিল সামষ্টিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে গতকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম এ বাজেটের আকার জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বড় অংকের এ বাজেটের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আহরণের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য উৎস থেকে আহরণ করা হবে ৯১ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া ঋণের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে ব্যাংক খাত থেকে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারের তিন ধাপে বিন্যস্ত ‘থ্রি আর’ কৌশল পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এগুলো হলো ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন’ (পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা আনয়ন), রিস্টোরেশন (পুনঃস্থাপন) ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন (গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন)। তার ভাষ্যমতে, প্রথম ধাপটি হবে স্বল্প বা এক বছর মেয়াদি, যার লক্ষ্য হলো অর্থনীতির অবক্ষয় রোধ করা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। দ্বিতীয় ধাপটি মধ্যম বা তিন বছর মেয়াদি। এ পর্যায়ে রাজস্ব কাঠামো সংস্কার, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের পুনর্গঠন এবং রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতির উত্তরণ ঘটানো হবে। দীর্ঘমেয়াদি বা তৃতীয় ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে। এ ধাপে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর, উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পূর্ণ পুনর্গঠন সম্পন্ন করা হবে।
আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে মূল্যস্ফীতিকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। একই সময়ের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগকে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মোট বিনিয়োগকে জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ও আমদানি ব্যয়ের চাপ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কথা বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করা হয়েছে। এ বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি কমাতে শুধু সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়; খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, বাজার তদারকি, আমদানি ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি মূল্য এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতাও একসঙ্গে সামলাতে হবে। আবার প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, রফতানি, ঋণপ্রবাহ ও অবকাঠামো বাস্তবায়ন দ্রুত গতিশীল করতে হবে। এখানেই মূল দ্বন্দ্ব। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করলে প্রবৃদ্ধি চাপের মুখে পড়তে পারে; আর প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যয় ও ঋণপ্রবাহ বাড়ালে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি ফিরে আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, জ্বালানি আমদানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। তাই ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ও ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনযোগ্য হলেও তা বেশ উচ্চাভিলাষী। নীতি সমন্বয় ব্যর্থ হলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে বিচ্যুতি ঘটার আশঙ্কা থাকবে।’
বাজেটে প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে বরাদ্দের মোট পরিমাণ ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ (সংশোধিত) ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর পরিচালন ব্যয় চলতি অর্থবছরের ৭২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে আগামী অর্থবছরে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে সুদ পরিশোধে আগামী অর্থবছরে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা মোট বরাদ্দের ২৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।
সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য সরবরাহ চেইনে বাধা, বাজার কার্টেল, একচেটিয়া বাজার, পণ্য পরিবহনের সময় বিভিন্ন পক্ষের চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যকে দায়ী করেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘রাজস্ব ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং কর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে করনীতি প্রণয়ন করা হবে। সরকারের মধ্যমেয়াদি রাজস্ব কৌশলের অংশ হিসেবে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।’
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন করদাতাকে অন্তর্ভুক্ত করা, কর নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাইজড করা এবং কর ফাঁকি ও পরিহার রোধে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করার ওপর জোর দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বৃদ্ধি, করদাতাবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ, কর কাঠামো সরলীকরণ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও তার বক্তব্য উঠে আসে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাজেটে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ চলতি অর্থবছরে যে রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল তা অর্জিত হবে না। অর্থাৎ বাস্তবে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হবে, সেখান থেকে সামনের অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করতে হলে অনেক বড় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এটাই বড় চ্যালেঞ্জ। এদিকে এআইটি, ভ্যাট এবং ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি দেয়ার পাশাপাশি আমদানি-প্রতিস্থাপক ও রফতানিমুখী শিল্পকে সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এতে রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ আরো বাড়বে। সরকার যে চারটি কৌশলের কথা বলেছে—কর অব্যাহতি কমিয়ে আনা, করফাঁকি বন্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ, করভিত্তি সম্প্রসারণ, এন্ড টু এন্ড অটোমেশন এবং প্রযুক্তির আরো কার্যকর ব্যবহার—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কর প্রশাসনের এ সংস্কারগুলো যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে না পারি, তাহলে সরকার ঋণঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং অর্থনীতিতে একটি দুষ্টচক্র সৃষ্টি হতে পারে।’
ব্যাপক হারে কর অব্যাহতি বিদ্যমান থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার কর ছাড় যৌক্তিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং এসআরও-ভিত্তিক কর ছাড়ের সুবিধা কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় কর রেয়াত বা ছাড়ের ক্ষেত্রে সংসদে অনুমোদন বাধ্যতামূলক করারও ঘোষণা দেন তিনি।
বাংলাদেশের ঋণমান উন্নয়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দুর্নীতি-সংশ্লিষ্ট ও অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং তার অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণে ঋণ গ্রহণ করায় আমাদের টেকসই ঋণ সক্ষমতা (ডেট সাসটেইনেবিলিটি) ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা ‘মধ্যম’ মানের ঝুঁকি থেকে ‘নিম্ন’ ঝুঁকির ঋণমানে ফিরে আসতে চাই। তাই আমরা রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি একটি সহনীয় পর্যায়ে রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চাই।’
সরকারের ব্যয় কাঠামোর দক্ষতা বৃদ্ধির প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তার বাজেট বক্তৃতায় উঠে আসে সরকার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে ব্যয়কে অগ্রাধিকার দেবে, যাতে এসব বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়া হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় বা কম ফলপ্রসূ ব্যয় হ্রাস পায়, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) নিশ্চিত হয় এবং ভ্যালু ফর মানি অর্জন করা সম্ভব হয়।
বাজেটে শিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ শতাংশ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। চলতি বছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা বা জিডিপির দশমিক ৫৮ শতাংশ।
এ সময় অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে সরকারের থ্রিআর কৌশলের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ব্যবসার খরচ এবং অনিশ্চয়তা কমাতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। উচ্চ মূল্য সংযোজনশীল শিল্প, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং রফতানিমুখী সেবা খাতকে এগিয়ে নিতে বাস্তবায়ন করা হবে সমন্বিত নীতি। এ সময় অর্থমন্ত্রী বিনিয়ন্ত্রিতকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যার লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে রাষ্ট্রকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সহায়ক শক্তিতে পরিণত করা। এর ফলে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্প উৎপাদন পুনরুদ্ধার হবে এবং একটি সাশ্রয়ী ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী ঘোষিত বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, যা একটি জাতির টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটে কৃষি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সার, কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে পোলট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতে কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে, যা এ খাতগুলোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে গবেষণা, আধুনিক যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষি প্রযুক্তির উন্নয়নে আরো বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন ছিল।’
বাজেট বক্তব্যে আর্থিক খাতের সংস্কারকে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবাহ সচল রাখার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, এ খাতের সংস্কারের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিলীকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদার করা। এজন্য দুর্বল ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনঃমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট ও পুঁজিবাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড এবং সুকুকের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার উৎসের বহুমুখীকরণ এবং স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেয়া হচ্ছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে শিল্প, আইটি এবং সৃজনশীল অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তার বক্তব্যে আরো উঠে আসে, সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নেরও ঘোষণা দেন তিনি।
বাজেট বক্তৃতায় চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা সরকারের কৌশলগত উন্নয়নের অংশ বলে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করা হবে। অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নে উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন এবং হাওর-বাঁওড় এলাকার উন্নয়নে কৃষি, মৎস্য চাষ, হাঁস পালন, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা বলেও উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য আগামী অর্থবছরে মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা ভর্তুকি এবং ১৬ হাজার ২৫ কোটি টাকা প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ দুই খাতে যথাক্রমে ৯৫ হাজার ৩১ কোটি ও ১৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে।
আগামী অর্থবছরে সরকারের দেশী-বিদেশী ঋণের পরিমাণ আরো বেড়ে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ২ হাজার ৪০০ কোটি ও বিদেশী ঋণ ১১ লাখ ৩০ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়াবে। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে সরকারকে ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
বাজেট প্রস্তাবের সঙ্গে প্রকাশিত অর্থবিভাগের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে দেশের অর্থনীতিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি-সংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরে জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশ বাড়লে অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের খরচ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরো তীব্র হবে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমবে। দ্বিতীয়ত, সরকারকে হয় বড় অংকের ভর্তুকি দিতে হবে, নয়তো জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে—উভয় ক্ষেত্রেই বাজেট ও শিল্প খাতে চাপ সৃষ্টি হবে। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর (যেমন বিপিসি, বিপিডিবি, পেট্রোবাংলা) লোকসান ও সরকারের প্রচ্ছন্ন দায় বাড়বে। চতুর্থত, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, টাকার অবমূল্যায়ন এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে। সবশেষে উৎপাদন খরচ বাড়ায় রফতানিমুখী শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে, বিনিয়োগ স্থবির হতে পারে এবং সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। সার্বিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যের আকস্মিক উত্থান সরকারের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রক্ষেপণগুলোকে ওলটপালট করে দিতে পারে।