ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় এ অভিযোগ জমা দেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাথমিক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাথমিকভাবে বেতনসংক্রান্ত বিরোধ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ জানায়, তার শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ এখনো করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সুস্থ হলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানায় পুলিশ।
ময়নাতদন্তে জানা গেছে, রুনার মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সৃষ্ট ২০টির বেশি ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। পরে পুলিশ মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। স্বজনরা মরদেহটি কুষ্টিয়া শহরের বাসায় নিয়ে যান।
ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম। তিনি জানান, নিহত শিক্ষিকার গলার নিচে শক্ত আঘাতের ফলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, যা মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া বুক, পেট, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিন বিকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।