সৃজনশীল পদ্ধতি আসলে সৃজনশীল নয় গাইড থেকেই মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরা

জান্নাতুল ফেরদৌসী, ঢাকার জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের বাংলার প্রভাষক। এর আগে তিনি গোপালগঞ্জের মৌলভী আব্দুল হাই মেমোরিয়াল স্কুল ও কলেজে প্রভাষক হিসেবে পড়িয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন ফ্রিল্যান্স স্ক্রিপ্টরাইটার হিসেবেও কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার নিয়মিত আয়োজন ‘শিক্ষালয়’-এ কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

​শিক্ষকতা পেশায় আসার পেছনের গল্পটা যদি বলতেন? কোনো স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ পেশায় এসেছেন? আসার পরের অভিজ্ঞতাটাই বা কেমন?

​সব মিলিয়ে বছর পাঁচেক হবে শিক্ষকতায় আছি। তবে আমি শিক্ষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবা, খালা, নানা ও জ্যাঠা—সবাই শিক্ষক ছিলেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই শিক্ষকতা পেশা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যকার মধুর সম্পর্কগুলো দেখে দেখে আমি বড় হয়েছি। তবে কর্মজীবনের শুরুতে আমি সরাসরি শিক্ষকতায় আসিনি; প্রথমে আমি স্ক্রিপ্টরাইটার হিসেবে কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে সময়ের পরিক্রমায় মনে হয়েছে শিক্ষকতাই আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পেশা, তাই এতে যুক্ত হওয়া। তবে সত্যি বলতে, আমাদের দেশে বেশির ভাগ শিক্ষকের ক্ষেত্রেই এ পেশা প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়ার সুযোগ বা প্রবণতা খুব একটা থাকে না।

​শিক্ষকতা পেশাটি আকর্ষণীয় বা ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়ার মতো প্রথম পছন্দ কেন থাকে না?

​এর পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা বেতন-ভাতার অপ্রতুলতা। এছাড়া বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের মতো আকর্ষণীয় পদেও দেখা যায়, অন্যান্য ক্যাডারের প্রমোশন ও সুযোগ-সুবিধা দ্রুত হলেও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন আটকে থাকে। এসব কারণে তরুণদের মাঝে শিক্ষকতার প্রতি সেই আগ্রহ তৈরি হয় না। অন্যদিকে যারা খুব আগ্রহ নিয়ে এ পেশায় আসেন, তারাও বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে একসময় হতাশ হয়ে পড়েন। আর এ হতাশা ধীরে ধীরে সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে, যা শিক্ষকতা পেশার প্রতি অনীহা তৈরির অন্যতম কারণ।

আপনি পাঁচ বছর ধরে কলেজে পড়াচ্ছেন। কলেজজীবন একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। অন্যান্য পর্ব যেখানে পাঁচ বা বেশি বছরের সেখানে কলেজ পর্বটা সর্বোচ্চ দুই বছরের। এ সময়টাতে আপনারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেমন শিখন ক্ষমতা প্রত্যাশা করেন এবং সেই প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হচ্ছে?

​আমার কাজের অভিজ্ঞতা দুটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের। আমি এক বছর একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি কলেজে পড়িয়েছি, আর বাকি সময় শহরে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখেছি, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি বা ‘বেসিক’ বেশ দুর্বল। কিন্তু তাদের মধ্যে শেখার আগ্রহ বা ক্ষুধা অনেক বেশি। অন্যদিকে শহরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি কিছুটা ভালো হলেও তাদের মধ্যে শেখার আগ্রহ অনেক কম। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে পড়াশোনার ক্ষুধা আছে, কিন্তু শহরের ছেলেমেয়েরা যেন একপ্রকার ওভারডোজড বা ক্লান্ত। তারা পড়াশোনাটাকে একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা না ভেবে সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজ মনে করে। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আনন্দের অভাব না থাকলেও পড়াশোনার বিষয়টি তাদের কাছে স্রেফ নিরুপায় হয়ে ক্লাসে বসে থাকার মতো।

​এখন তো শিক্ষার্থীদের সময় কাটানো, আনন্দ নেয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, রিলস, শর্টস, ভিডিও গেমস রয়েছে। আবার পড়াশোনার জন্য ভিডিও বা অনলাইন লেকচারের সুযোগ রয়েছে। প্রযুক্তির এ অগ্রযাত্রায় ভবিষ্যতে ক্লাসরুমে শিক্ষকের ভূমিকা কতটুকু থাকবে বলে মনে করেন?

​অনলাইন প্লাটফর্ম বা প্রযুক্তির বিকাশ যতই হোক, শিক্ষকের বিকল্প কখনো তৈরি হবে না। প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক মজার উপায়ে শেখা যেতে পারে, কিন্তু শিক্ষকের সরাসরি স্পর্শ বা দিকনির্দেশনা ছাড়া প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব নয়। সিলেবাসের বাইরেও বইয়ের নানা সাহিত্য শিক্ষার্থীদের চিন্তা গঠন করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, ছোটবেলায় আমার সন্তান প্রচুর ইউটিউব ও ইংরেজি কার্টুন দেখে নেটিভদের মতো উচ্চারণ শিখলেও শব্দ ও বাক্যের সঠিক প্রয়োগ কিন্তু ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে আমরা যখন তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি, তখনই সে সঠিকভাবে ইংরেজি ও বাংলা শিখতে পেরেছে। মানুষের সরাসরি সংযোগ ও দিকনির্দেশনা ছাড়া প্রপার শিখন সম্ভব নয়—শিক্ষকের গুরুত্ব ঠিক এখানেই।

​স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধভাবে বাংলা বা ইংরেজি লিখতে ও বলতে পারছে না বলে একটি অভিযোগ রয়েছে। বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে আপনার মতামত কী?

​বাংলা ভাষা তারা বলতে পারছে না, তা নয়। তবে পরিবার বা সমাজে শুদ্ধ বাংলার চর্চা কমে গেছে। পরিবার ও গণমাধ্যমে হিন্দি বা ইংরেজির প্রভাবেই শিক্ষার্থীরা কথা বলার সময় মিশ্র ভাষা (বাংলিশ) ব্যবহার করে, যেটিকে তারা স্মার্টনেস মনে করে। তবে বিষয়টিকে আমি নেতিবাচকভাবে দেখি না, কারণ এটি ভাষার স্বাভাবিক গতিশীলতারই অংশ। লক্ষণীয় বিষয় হলো, কথা বলার সময় মিশ্র ভাষা ব্যবহার করলেও শিক্ষার্থীরা কিন্তু লেখার সময় সঠিক ও প্রমিত বাংলাটাই লিখছে। অর্থাৎ লেখার ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়নি।

স্কুল-কলেজ পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে যে শিখন দক্ষতা অর্জনের কথা তেমনটা পারছে কি শিক্ষার্থীরা?

কলেজের ছেলেমেয়েরা যথেষ্ট দক্ষ বলেই মনে করি। যদিও আমার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বেশি দিনের নয়, তবু কোনো ছেলেমেয়ে একেবারে বাংলা লিখতে পারে না এমনটি দেখিনি। আমি যেহেতু বাংলা মিডিয়ামে পড়িয়েছি সেখানে তেমন সমস্যা দেখিনি। তবে ইংরেজি মাধ্যমের কিছু ছেলেমেয়ের হয়তো বাংলায় লিখতে অসুবিধা হয়। ইংরেজি মাধ্যমের ছেলেমেয়েদের একটা বড় অংশই ছোটবেলা থেকেই বাংলা থেকে দূরে থাকে। যাকে আমরা বাংলা শেখাইনি তার কাছ থেকে কীভাবে বাংলায় দক্ষতা আশা করতে পারি।

​প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে অভিভাবকরা সুশিক্ষার চেয়ে ভালো ফলাফলের ওপর বেশি জোর দেন। দক্ষতা অর্জন করল কিনা, ভালো মানুষ হলো কিনা সে বিষয়টি অনেক সময় পাত্তা পায় না। শিক্ষক হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?

​এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং আমাদের সবার জন্যই ভাবনার বিষয়। আমরা শিক্ষকরা নিয়মিতই এ বিষয়ের মুখোমুখি হই। নৈতিকতার গুরুত্বহীনতা আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় সংকট। নৈতিকতা কোনো বই পড়ে একদিনে শেখার বিষয় নয়; এটি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের বিষয়। নৈতিকতা, সততা এ বিষয়গুলো ধীরে ধীরে শিশুর মন-মগজে ও আচরণে স্থান করে নেয়। এমনকি শিক্ষার্থীদের শিখন ও দক্ষতা অর্জনও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু অভিভাবকরা এখন আর অপেক্ষা করতে চান না, তারা তাৎক্ষণিক ফল ও জিপিএ ৫ চান। শিক্ষকরা ক্লাসে সব তৈরি করে দেবেন এবং শিক্ষার্থীরা শুধু মুখস্থ করে খাতায় লিখে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা থাকে। এতে শিক্ষার্থীর নিজস্ব সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বড়দের সম্মান করা বা সামাজিক শিষ্টাচার বজায় রাখার মতো পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার জায়গাগুলোতেও এখন বেশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

​রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের অলিগলিতে কিশোর গ্যাং, অপরাধমূলক কাজ বা মাদকের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এসব থেকে দূরে রাখতে শিক্ষক হিসেবে আপনারা কী ধরনের ভূমিকা রাখছেন?

​প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম না থাকলেও আমরা তাদের সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করি। আসলে একজন শিক্ষার্থী তখনই অপরাধের দিকে পা বাড়ায়, যখন সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়ে বা বিতাড়িত হয়। অনেক সময় সামান্য নিয়মভঙ্গের কারণে শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কোনো শিক্ষার্থীকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে বের করে দেয়া হয়। কিন্তু টিসি পাওয়ার পর সেই শিক্ষার্থী কোথায় যাচ্ছে বা কোন সমাজে আশ্রয় নিচ্ছে, সে খোঁজ প্রতিষ্ঠান রাখে না। এসব একা হয়ে যাওয়া সন্তানরাই পরবর্তী সময়ে গ্যাং বা মাদকের জালে গিয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত শিক্ষার্থীদের সরাসরি বের না করে তাদেরকে ইতিবাচকভাবে সংশোধন ও মোটিভেট করার চেষ্টা করা।

​আপনি যে প্রতিষ্ঠানে (জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ) পড়াচ্ছেন, তা তুলনামূলকভাবে নতুন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এটিকে কীভাবে আলাদা করবেন?

​আমাদের প্রতিষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো—আমরা সহশিক্ষা কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজে ভীষণ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। আমরা যেহেতু প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াই সেজন্য ছোট বয়স থেকেই শিশুদের নানা সহপাঠ কার্যক্রমে যুক্ত করি। আমাদের অনেকগুলো সক্রিয় ক্লাব রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই আমাদের শিক্ষার্থীরা নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি ও উপস্থিত বক্তৃতায় উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি উপস্থিত বক্তৃতায় একটি জাতীয় পুরস্কারও এসেছে। এ সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সক্রিয়তাই আমাদের কলেজকে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে।

​শহর ও প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এক বিশাল বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্যকে একজন শিক্ষক হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

​এটি নিঃসন্দেহে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নেতিবাচক দিক। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো শিক্ষায়ও এ অসমতা স্পষ্ট। ভালো ডিগ্রিধারী চিকিৎসক বা যোগ্য শিক্ষকরা সচরাচর প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সেবা দিতে চান না। ঢাকা শহরে যেমন টাকা থাকলে ভালো চিকিৎসা বা ভালো শিক্ষার সুযোগ মিলছে, গ্রামে অনেক সময় সেই সুবিধাগুলো পাওয়া যায় না। সরকার অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও গ্রাম ও শহরের মধ্যে সুষম এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ব্যবধান এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে গেছে।

এর বাইরে আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কারিকুলাম নানাভাবে বিভক্ত। এর ফলে ছোটবেলা থেকেই শিশুরা নানা বৈষম্যের মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। অনেকেই স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। মেয়েদের অনেকেরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সর্বব্যাপী। নিশ্চয়ই আপনার ছাত্রছাত্রীরাও এআই ব্যবহার করছে। এআইয়ের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্কটা কেমন? শিক্ষার্থীদের এআই নিয়ে উৎসাহিত করেন নাকি নিরুৎসাহিত করেন?

না, আমরা নিরুৎসাহিত করি না। আমরা শিক্ষার্থীদের এআই রপ্ত করতে উৎসাহ দিয়ে থাকি। বিভিন্ন কাজে অবশ্যই তারা এআইয়ের সহযোগিতা নিতে পারে। আমরা মনে করি, এআই ব্যবহার করাও একটা স্কিল। কারণ ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় কিংবা পেশাগত জীবনে তাকে এআইয়ের দারস্থ হতেই হবে। এ কারণে স্কুল-কলেজ পর্যায়েই সম্যক পরিচিতি থাকা খারাপ নয়।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধান দুর্বলতা কোথায়; কারিকুলাম, শিক্ষক প্রশিক্ষণ নাকি শিক্ষকের বেতন-ভাতা?

শিক্ষক হিসেবে আমার মত, কারিকুলাম হচ্ছে আমাদের প্রধান দুর্বলতার জায়গা। স্কুলে এক গাদা বই নিয়ে আসবে, ক্লাসে শিক্ষকদের লেকচার নোট নেবে এখনকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ প্রবণতা কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বই নিয়ে আসার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে আমার বেশ কষ্ট হয়।

দীর্ঘদিন বলা হলো, শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করবে। সত্যি কথা বলতে কি সৃজনশীল পদ্ধতি আসলে সৃজনশীল নয়। শিক্ষার্থীরা গাইড থেকে মুখস্থ করেই পরীক্ষায় লিখছে। তাছাড়া সব সাবজেক্ট সৃজনশীল পদ্ধতিতে পড়ানো সম্ভব নয়। যেমন উচ্চতর গণিত; প্রচলিত সৃজনশীল পদ্ধতিতে তার প্রশ্ন কীভাবে হবে? ফলে সৃজনশীল পদ্ধতি আসলে কাজ করছে না, গাইডনির্ভরই থাকছে শিক্ষার্থীরা।

পাঠদানের ক্ষেত্রে ভিজুয়াল কনটেন্ট, আধুনিক টুলস ব্যবহার করেন? যেমন অনেক সাহিত্যকর্মেরই নাটক ও সিনেরূপ রয়েছে। আপনারা সেগুলো ব্যবহার করেন কি?

আমি ব্যক্তিগতভাবে ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ভিজুয়াল কনটেন্ট সাজেস্ট করি, কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে ক্লাসে দেখাতে পারি না। যে গল্প বা কবিতা পড়াই তা নিয়ে যদি ভালো কোনো ভিজুয়াল কনটেন্ট থাকে তা ছাত্রছাত্রীদের দেখতে বলি এবং তারা তা দেখেও। পরে এসে তারা আমকে ফিডব্যাকও দেয়। অনেক সময় লিখিত গল্প থেকে ভিজুয়াল কনটেন্ট কোন কোন জায়গায় আলাদা সে বিষয়েও তাদের পর্যবেক্ষণ দিই।

আরও