আইএলও সম্মেলনে বৈষম্যহীন শ্রম ব্যবস্থার আহ্বান বাংলাদেশের

শ্রম খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ছয়টি নতুন শ্রম আদালত গঠন এবং কলকারখানা পরিদর্শনে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শ্রম বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মালিক–শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে সংলাপ বাড়াতে একটি জাতীয় ফোরাম গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোয় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মূল পর্বে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ আহ্বান জানান। তিনি দেশের শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমও তুলে ধরেন। উরুগুয়ের শ্রমমন্ত্রী হুয়ান কাস্তিলো অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যের শুরুতে শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সম্মেলনের প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শ্রমিকের অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সম্মেলনে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে আইএলসি’র সহ-সভাপতি নির্বাচিত করায় তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশ্ব পরিস্থিতির নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্রমবাজার ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকদের সংকটের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন এবং এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

শ্রম খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ছয়টি নতুন শ্রম আদালত গঠন এবং কলকারখানা পরিদর্শনে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শ্রম বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মালিক–শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে সংলাপ বাড়াতে একটি জাতীয় ফোরাম গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নারীদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে ‘জেন্ডার রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ডে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরো তিনটি আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সব মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের গৌরব অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের অনুমোদিত কনভেনশনের সংখ্যা ৩৯টি, যা এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে সর্বোচ্চ।

বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্রমের অবমূল্যায়নের সমালোচনা করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির আকার বিবেচনায় শ্রমের মূল্য নির্ধারণ বৈষম্যমূলক। আইএলও ব্যবস্থাকে আরো গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের দাবি অল্প কয়েকটি দেশের কারণে আটকে থাকা উচিত নয়।

তিনি স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোয় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

আরও