বরিশাল
বিভাগে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২ লাখ ৩০
হাজার ৩৮৯ জন। সাগর ও নদীতে মাছ
ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে
চাল দেয়ার কথা। দেশের সব নদ-নদীতে
জাটকা (১০ ইঞ্চির কম
আকৃতির ইলিশ) রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমেও চলছে নিষেধাজ্ঞা। ১ নভেম্বর থেকে
শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে চলতি বছরের ৩০ জুন। নিষেধাজ্ঞা
চলমান থাকলেও সহায়তার চাল পাননি জেলেরা।
অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মাঝেও বন্ধ হয়নি জাটকা নিধন। নদ-নদীতে নৌকা ও ট্রলার দিয়ে দিন-রাত চলছে জাটকা শিকার। তবে জেলেরা বলছেন, এ সময় বিকল্প আয়ের উৎস না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা জাটকা শিকার করছেন। নিষেধাজ্ঞার তিন মাস পার হলেও সরকার ঘোষিত খাদ্যসহায়তার চাল পাননি কার্ডধারী জেলেরা। তবে মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, শিগগিরই জেলেদের মধ্যে সহায়তার চাল বিতরণ করা হবে।
বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বরিশাল বিভাগে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৯ পরিবার চাল পাবে। এ সময় প্রত্যেক জেলেকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা রয়েছে। বরিশাল জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৩ হাজার ২৮৯ জন, পিরোজপুরে ১৭ হাজার ৬৮২, পটুয়াখালীতে ৫০ হাজার ১৩৯, ভোলায় ৮৯ হাজার ৬০০, বরগুনায় ২৬ হাজার ৪৮৯ ও ঝালকাঠিতে ৩ হাজার ২০০ জন।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া জেলে হেলাল উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তিন মাস বেকার। মাছ ধরে আমাদের দিন চলে। মাছ না ধরলে সংসার চলে না। এতদিন অপেক্ষা করেছি সরকারের সহায়তার জন্য। না পেয়ে এখন বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামতে হচ্ছে।’
একই কথা বলেন বরিশাল সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া মো. শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘নদীতে না গেলে ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। কবে সরকার চাল দেবে, সে অপেক্ষায় থাকলে মরতে হবে না খেয়ে।’
তবে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাসির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিভাগের ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৯ জন জেলের জন্য দুই মাসের চাল বরাদ্দ এসেছে, যা পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে।’
এদিকে বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা, কালাবদর, লতা, কীর্তনখোলা, বানারীপাড়া-উজিরপুরের সন্ধ্যা, মুলাদীর আড়িয়াল খাঁসহ সবক’টি নদীতে অবাধে জাটকা ধরছেন জেলেরা। এসব মাছ বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার ইঞ্চি আকৃতির ইলিশের পোনা চাপিলা নামে বিক্রি করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। জেলেদের দাবি, মহাজনদের চাপের মুখে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশের পোনা নিধনে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও সুযোগসন্ধানী কিছু জেলে নদীতে মাছ ধরছেন। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘এ অঞ্চলের নদ-নদীতে চাপিলা খুব কম পরিমাণে পাওয়া যায়, যা ধরা পড়ছে তার মধ্যে ইলিশের পোনাই বেশি।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এবার জেলেদের সহায়তার চাল একটু দেরিতে বরাদ্দ এসেছে। শিগগিরই জেলেরা চাল পেয়ে যাবেন। এবার জেলেরা একসঙ্গে দুই মাসের চাল পাবেন।’
জাটকা নিধন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বল্প জনবল দিয়ে বিশাল নদী পাহারা দেয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। মেঘনা ও শাখা নদীতে জাটকা নিধনের বিষয়টি আমরা শুনেছি। অভিযানে কিছু জাল জব্দও হয়েছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা নদী পর্যবেক্ষণ করছেন। তাছাড়া ১১ জানুয়ারি থেকে এ অঞ্চলে যৌথ অভিযান চলছে।’