জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন ছাত্রলীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী। সোমবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে তাদের ধাওয়া দেন আন্দোলনকারীরা।
কোটা আন্দোলনকারীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা উপাচার্যের সঙ্গে তার বাসভবনের সামনে দেখা করেন। দেখা করার পর ছাত্রলীগের হামলার আশঙ্কায় আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এর মধ্যে রাত ১২টার দিকে হেলমেট পরে দেশীয় অস্ত্র হাতে তাদের ওপর হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, হামলার পর মধ্যরাতের দিকে উপাচার্য বাসভবনের ফটকের ভেতরে আশ্রয় নেন তারা। সেখানেও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চালান ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা এসে ধাওয়া দিলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগান ফটক দিয়ে পালিয়ে যান। পরে সেখানে অবস্থানরত পুলিশের ওপর চড়াও হন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে উপাচার্যের বাসভবন চত্বরে কাঁদানে গ্যাসের ১০-১৫টি শেল ছোড়ে পুলিশ। এছাড়া শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করা হয়। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। গতকালও সারা দিন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিতে দেখা গেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা হলে পুলিশ এসে হামলাকারীদের প্রতিহত করে। পরে তারা এখান থেকে সরে যান।’
এদিকে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ছররা গুলিতে আহত হন বণিক বার্তার জাবি প্রতিনিধি মেহদী মামুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চার সাংবাদিক। মেহদী মামুন জানান, সোমবার রাতে সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে।
আহত বাকি তিন সাংবাদিক হলেন জোবায়ের আহমেদ (দ্য বাংলাদেশ টুডে), আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল (ইত্তেফাক) ও আব্দুর রহমান সার্জিল (দৈনিক বাংলা)।