লাগেজ ফেলেই যাত্রী নিয়ে আসছে বিদেশী এয়ারলাইনসগুলো

ওমান এয়ারের একটি ফ্লাইটে গত ২৭ জুন মাস্কাট থেকে ঢাকায় আসেন প্রবাসী মো. মাসুদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাগেজ বেল্টে প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হন নিজের লাগেজ খুঁজে পেতে। মাসুদের মতো ওই ফ্লাইটের আরো কয়েকজন যাত্রী তাদের লাগেজ পাচ্ছিলেন না। পরে ওমান এয়ারের কর্মকর্তারা জানান, তাদের

ওমান এয়ারের একটি ফ্লাইটে গত ২৭ জুন মাস্কাট থেকে ঢাকায় আসেন প্রবাসী মো. মাসুদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাগেজ বেল্টে প্রায় ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও ব্যর্থ হন নিজের লাগেজ খুঁজে পেতে। মাসুদের মতো ওই ফ্লাইটের আরো কয়েকজন যাত্রী তাদের লাগেজ পাচ্ছিলেন না। পরে ওমান এয়ারের কর্মকর্তারা জানান, তাদের লাগেজ মাস্কাট থেকেই আসেনি। কর্মকর্তারা তাদের জানান, লাগেজ ওমান থেকে এলে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে। যদিও এখন পর্যন্ত সেই লাগেজের হদিস পাননি যাত্রীরা। নিরুপায় হয়ে জুলাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মাসুদ।

সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ স্বপন গত ২৮ জুন সালাম এয়ারের ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসেন। ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা থাকলেও সেটি নামে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে। লাগেজের জন্য ঘণ্টা অপেক্ষার পর মোহাম্মদ স্বপন জানতে পারলেন তার লাগেজ আসেনি।

মোহাম্মদ স্বপন বণিক বার্তাকে বলেন, আমার দুটি লাগেজ ছিল। আমিসহ একই ফ্লাইটের আরো ১০ জন যাত্রী লাগেজ পাননি। আমাদের বলা হলো, দু-তিনদিনের মধ্যে লাগেজ এলে সালাম এয়ার বাড়িতে পৌঁছে দেবে। কিন্তু এখনো কোনো লাগেজ পাইনি। ঈদ উপলক্ষে পরিবারের জন্য কিছু জিনিসপত্র আনলাম। সে তো দূরে থাক, নিজের পরার মতো জামা-কাপড়ও নেই।

লাগেজ না পেয়ে মো. মাসুদ মোহাম্মদ স্বপনের মতো প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্য থেকে ছুটি নিয়ে দেশে আসা অনেক প্রবাসী।

সাধারণত বাজেট (লো কস্ট ক্যারিয়ার) এয়ারলাইনসগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড হয়। তবে বর্তমানে শুধু বাজেট এয়ারলাইন নয়, সব ধরনের এয়ারলাইনের ক্ষেত্রে ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস, এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, ওমান এয়ার, গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রে ব্যাগেজ লেফট-বিহাইন্ড বেশি হচ্ছে।

এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাগেজ লেফট-বিহাইন্ড অর্থ একটি ফ্লাইটে যাত্রী তার নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছলেও তার লাগেজগুলো একই ফ্লাইটে আসেনি। উড়োজাহাজ আকাশে ওড়ার ক্ষেত্রে ভার বহনের সক্ষমতা নির্ধারিত। খালি উড়োজাহাজের ওজন, যাত্রীদের ওজন, যাত্রীদের লাগেজের ওজন, উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলের ওজন সব সমন্বয় করে আকাশে ওড়ার জন্য নির্ধারিত ওজন ঠিক রেখে ফ্লাইটের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তবে নির্ধারিত ওজনের তারতম্য হলেই যাত্রী আনলেও লাগেজ রেখে আসতে বাধ্য হয় এয়ারলাইনসগুলো।

নিয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশী এয়ারলাইনসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, লাগেজ লেফট-বিহাইন্ডের মতো ঘটনা কিন্তু প্রতি ফ্লাইটে হয় না। কখনো কখনো ফ্লাইটে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে গেলে এয়ারলাইনসগুলো লাগেজ কমিয়ে ওজনের সমন্বয় করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। পরবর্তী ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে এসে যাত্রীদের দেয়া হয়।

আরও