চিড়িয়াখানার দুর্দশা

জঙ্গলে ঢাকা পড়ছে খাঁচা, পরিত্যক্ত পড়ে আছে জমি

একসময় যেখানে ছিল প্রাণীর বিচরণ, দর্শনার্থীদের কোলাহল আর শিশুদের উচ্ছ্বাস, কুমিল্লার সেই জায়গাজুড়ে এখন নেমেছে নীরবতা। প্রাণী রাখার জন্য তৈরি খাঁচাগুলো পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

কোথাও খাঁচার কাঠামো থাকলেও নেই কোনো প্রাণী, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের অযত্নে জায়গাটি পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত জমিতে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, প্রাণী না থাকা এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে অবকাঠামোও।

জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরি মৌজায় ১০ দশমিক ১৫ একর জায়গা নিয়ে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দশমিক ৭৫ একর জায়গায় স্থাপন করা হয় চিড়িয়াখানা। কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি মূলত ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে কার্যগতভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন-চিড়িয়াখানার প্রধান গেটে অপেক্ষমাণ জালাল উদ্দিন নামের এক প্রবাসী। তিনি জানান, ‌১৫ দিন আগে কাতার থেকে দেশে এসেছেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন। ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে তিনি কোটবাড়ী শালবন বিহারে যাবেন বলে জানান। এটি কেন বন্ধ, তা তিনি জানেন না। বন্ধ থাকার বিষয়টি ফটকে লিখে দেয়া প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, ‘চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের জায়গার মালিক জেলা প্রশাসন। এত দিন জেলা পরিষদের অধীনে থাকলেও আমরা জায়গাটির মালিকানা বুঝে নিয়েছি। এ বিনোদন স্থাপনাটির উন্নয়নে বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তাই উন্নয়নকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। চিড়িয়াখানার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও