সরকারি নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল

সাতক্ষীরায় ‘অতিঝুঁকিপূর্ণ’ ভবনে শিক্ষা ও আবাসন বিপাকে শিক্ষার্থীরা

সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ এবং হোস্টেলটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

চার তলাবিশিষ্ট কলেজ ও হোস্টেল ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ছাদের ঢালাইয়ের পলেস্তারা খসে পড়ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ভবনটি পরিদর্শন করে এরই মধ্যে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে প্রতিবেদন দিয়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করার পাশাপাশি হোস্টেলে রাত্রিযাপন করছেন প্রায় ৩৬৫ ছাত্রী এবং ৩০ ছাত্র। অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ কর্তৃপক্ষ অধ্যয়নরত সব ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে দায়মুক্তির স্বাক্ষর নিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী শিউলি জানান, কলেজ ও হোস্টেলের ভবনগুলো এতই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে প্রায়ই ছাদের ঢালাইয়ের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কখনো পড়ার টেবিলে, কখনো বা খাওয়ার সময়ও হঠাৎ পলেস্তারা খসে পড়ে। বৃষ্টি হলে পলিথিন মুড়িয়ে থাকতে হয়। বইসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া পুরো ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। বিম ও সিঁড়ির রড উন্মুক্ত হয়ে গেছে। এতে করে প্রায় ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফলে পড়ালেখাও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিউলিসহ একাধিক ছাত্রছাত্রী জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইনস্ট্রাক্টর মোছা. সুরাইয়া ইয়াসমিন চার তলাবিশিষ্ট ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে জরুরি ব্যবস্থা নেয়া জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সিভিল সার্জন সাতক্ষীরা, জেলা প্রশাসকসহ গণপূর্ত অধিদপ্তরে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না হওয়া এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নার্সিং কলেজ ও হোস্টেলে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে লিখিতভাবে দায়মুক্তির স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার আব্দুল ওয়াহিদ জানান, সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ কর্তৃপক্ষের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা সেগুনবাগিচা থেকে ডিজাইন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি টিম কলেজটি সরজমিনে পরিদর্শন করে গত ৩০ মার্চ একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তাতে ভবনের বর্তমান অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যায়িত করে বলা হয়েছে, এটি সংস্কারের উপযোগী নয়; নতুন ভবন নির্মাণ করাই শ্রেয়। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল এবং ঢালাইয়ের রড উন্মুক্ত হয়ে গেছে। বিম ও সিঁড়ির অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার বণিক বার্তাকে জানান, সাতক্ষীরা সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ ও হোস্টেল ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ—বিষয়টি তিনি অবগত। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।

আরও