জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

জনবল সংকটে চালু হয়নি আইসিইউ

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ২০২২ সালে স্থাপন করা হয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)।

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ২০২২ সালে স্থাপন করা হয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ১০ শয্যার আইসিইউতে ব্যয় হয়েছে কোটি ২৫ লাখ টাকা। আধুনিক শয্যাসহ সব যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকলেও নিয়োগ হয়নি জনবল। ইউনিটটি চালু না হওয়ায় দুই বছর ধরে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না রোগীরা।

সেবা নিতে আসা রোগীদের দাবি, ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে জেলার রোগীদের যেতে হয় রাজশাহী, রংপুর বগুড়ায়। সামর্থ্যবান রোগীরা জেলার বাইরে যেতে পারলেও অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাওয়া যায় না। দীর্ঘ পথ নিয়ে যেতে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে হাসপাতালের পুরনো ভবনের চার তলায় ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত। গণপূর্ত বিভাগ অবকাঠামো র্নিমাণ করে। এরপর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জেলা পরিষদ স্থানীয় বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। তবে জনবলের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি আইসিইউ ইউনিট। ছয়জন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক ১০ জন ওয়ার্ড বয় পেলেই আইসিইউ ইউনিট চালু করা যাবে।

রোগীর স্বজন সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে, এটি দ্রুত চালু করলে আমাদের মতো গরিব মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবে।

শহরের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, ‘আইসিইউ একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা। অনেক সময় বাইরের জেলায় যাওয়ার জন্য এখানে সে ধরনের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। আবার অনেক সময় পাওয়া গেলেও ভাড়া বেশি নেয়। এমন পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগী নিয়ে জেলার বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আক্কেলপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. সোহেল বলেন, ‘মুমূর্ষু রোগীকে অনেক সময় আইসিইউ সেবা দিতে না পারলে মারা যায়। সামর্থ্যবান রোগীরা জেলার বাইরে যেতে পারলেও মুমূর্ষু রোগীরা তা পারে না অনেকেই পথেই মারা যায়। আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা গেলে অবস্থা আর থাকবে না।

ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক জুয়েল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আইসিইউ ওয়ার্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রায় ব্যয় হয়েছে কোটি ২৫ লাখ টাকা। আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য এরই মধ্যে ১৬ নার্সকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন ছয়জন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক, ১০ জন ওয়ার্ড বয় পাওয়া গেলেই চালু করা যাবে আইসিইউ ইউনিটিটি। বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীকে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত আইসিইউ ইউনিটটি চালু করতে কর্তৃপক্ষ নজর দেবে।

আরও