দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প

৫০ হাজার টন উৎপাদন বৃদ্ধি বিকল্প আয়ের উৎস পেয়েছে ১৬ হাজার জেলে পরিবার

দেশীয় প্রজাতির মাছের বিলুপ্তি রোধ ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’ অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রজনন মৌসুমে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় মাছের উৎপাদন ১৬ শতাংশ বাড়ানো।

ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১০ জেলার ৫২ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. খালিদুজ্জামান জানান, ২০২১ সালে প্রকল্প এলাকায় দেশীয় মাছের উৎপাদন ছিল চার লাখ টন। ২০২৫ সাল নাগাদ তা ৪ লাখ ৬৪ হাজার টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান অর্জন লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। আগামী ৩০ জুন এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে ১০ জেলায় দেশীয় মাছের উৎপাদন প্রায় ৫০ হাজার টন বেড়েছে। একই সঙ্গে ১৬ হাজার ৬৫০ মৎস্যজীবী পরিবারকে বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে ছাগল, বকনা বাছুর কিংবা ভ্যান দেয়া হয়েছে।

বিকল্প আয়ের সুযোগ থাকায় জেলেরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখছেন।

প্রকল্পের আওতায় খাঁচায় মাছ চাষ, ধানখেতে মাছ চাষ এবং আধুনিক মৎস্য চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে ৩০ হাজার মৎস্যজীবীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাছের অবাধ প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য স্থাপন করা হয়েছে ২০০টি অভয়াশ্রম। অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম ধ্বংস করায় নদ-নদী ও বিল-হাওরে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরে এসেছে।

গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‌বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করায় জেলেরা এখন সচেতন। ফলে প্রতি বছর জেলাতেই দেশীয় মাছের উৎপাদন দুই হাজার টন করে বাড়ছে।"

আরও