নাচ-গানে নিজস্ব বর্ষকে বিদায় জানাল খাসিয়ারা

ঐতিহ্যবাহী নাচ, খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজস্ব বর্ষকে বিদায় জানিয়েছে খাসিয়ারা।

ঐতিহ্যবাহী নাচ, খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিজস্ব বর্ষকে বিদায় জানিয়েছে খাসিয়ারা। এ উপলক্ষে গতকাল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘খাসি সেং কুটস্নেম’। খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন খাসিয়াপুঞ্জি থেকে একত্র হন খাসিয়ারা।

আয়োজকরা জানান, সেং কুটস্নেম বা বর্ষবিদায় খাসিয়াদের সর্বজনীন উৎসব। ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ নভেম্বর মৌলভীবাজারের মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জির খেলার মাঠে এ অনুষ্ঠান করা হয়। তবে এ বছর বিশেষ কারণে একদিন এগিয়ে ২২ নভেম্বর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তাদের নিজস্ব বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এবার ১২৬তম বর্ষকে বিদায় ও ১২৭তম বর্ষকে বরণ করে নিচ্ছেন তারা। ব্রিটিশ আমল থেকে ভারতে মেঘালয় রাজ্যে ২৩ নভেম্বর খাসি সেং কুটস্নেম পালন করা হয়। ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয় খাসিদের নতুন বছর। খাসিয়ারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সাজসজ্জায় নেচেগেয়ে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। দিনব্যাপী উৎসবে ছিল ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, নাচ-গান আর আদিবাসীদের নিজস্ব পণ্যসামগ্রীর মেলা। ছিল ঐতিহ্যবাহী পানগুচি, গুলতি আর তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা তীরন্দাজরা অংশ নেন বিলুপ্তপ্রায় এ খেলায়। যুদ্ধনাচ আর আনন্দ নৃত্য ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

উৎসব উপলক্ষে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও মাঠজুড়ে বসেছিল মেলা। বিভিন্ন স্টলে খাসিয়া পোশাক, পান-সুপারি, তীরধনুক, বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসপত্রের পসরা বসে।

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের তথ্য ও প্রচার সাধারণ সাজু মারছিয়াং বলেন, ‘পাহাড়ি জীবনের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতি বছর খাসি সেং কুটস্নেম উৎসবের আয়োজন করা হয়।’

খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, খাসিদের নিজস্ব আচার আর বর্ণিল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর এ আয়োজন করা হয়। সিলেট বিভাগের প্রায় ৭৩টি খাসিয়াপুঞ্জির মানুষ এ উৎসবে অংশ নেয়।

আরও