ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ‘জরুরি অবস্থা’ এবং সাধারণ ছুটির কারণে শুক্রবার থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ওএমএসের ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমও। স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া এসব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষ কিনতে পারে। পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে, গতকাল পর্যন্ত সেটি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি সংস্থা দুটি।

কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলনের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, ‘জরুরি অবস্থা’ এবং সাধারণ ছুটির কারণে শুক্রবার থেকে সারা দেশে পণ্য সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ওএমএসের ট্রাকে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমও। স্বল্পমূল্যে বিক্রি হওয়া এসব পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষ কিনতে পারে। পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম কবে নাগাদ চালু করা সম্ভব হবে, গতকাল পর্যন্ত সেটি সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি সংস্থা দুটি।

এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার থেকেই পণ্য বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। সড়ক অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবার পণ্য পাঠানো যায়নি। ফলে শুক্রবার থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যে পণ্য দিতে পারিনি আমরা। সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

চলতি মাসে টিসিবি নিম্ন আয়ের একজন মানুষের কাছে একটি প্যাকেজে দুই কেজি ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল ও পাঁচ কেজি চাল ৪৭০ টাকায় বিক্রি করছিল। সেখানে ডালের মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা, তেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা ও চাল কেজিপ্রতি ৩০ টাকা দরে। অন্যদিকে ওএমএসের মাধ্যমে বিক্রি হওয়া আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা এবং চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বর্তমান বাজারে এসব পণ্যের মূল্য দ্বিগুণের বেশি।

স্বল্প মূল্যের পণ্য বিক্রি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুররা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর বস্তি এলাকার বেশির ভাগ পরিবার গত কয়েকদিনের অচলাবস্থার কারণে খাদ্য সংকটে পড়ে। এ এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও পুলিশের সঙ্গে বিরতিহীন সংঘর্ষ হয়েছে গত বুধবার থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত। এর আগে দুইদিন এ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ ছিল কার্যত বন্ধ। ফলে মোহাম্মদপুর এলাকার মুদি দোকানগুলোয়ও পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে। পণ্যের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। যেটি নিম্ন আয়ের মানুষের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে তুলেছে। 

মোহাম্মদপুরের নবীনগর বস্তির দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের বিভিন্ন পেশার মানুষকে দেখা যায় অলস সময় কাটাতে। বস্তিতে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে বাস করেন দিনমজুর নূর মোহাম্মদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখানে দোকানে জিনিসপত্র নেই। যা অল্প কিছু আছে সেগুলোর দাম অনেক বেশি। কোনো দিকে যাব সেই সুযোগ নেই। সবদিকে আন্দোলন চলে, পুলিশ গুলি করছে। টিসিবি অল্প দামে চাল, ডাল আর তেল বিক্রি করত, সেটাও আসছে না কয়েকদিন ধরে। ঘরে খাবার শেষ, ধার করব কার কাছে? এখানে আমরা যারা থাকি, সবারই একই অবস্থা।’

একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আজিমপুর এলাকায়ও। আজিমপুর ছাপরা মসজিদের সামনে ট্রাকে ওএমএস এবং টিসিবির পণ্য বিক্রি করেন বশির আহমেদ। 

স্বল্প মূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এ ডিলার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বুধবার থেকে ওএমএসের পণ্য আনতে পারি না, আর বৃহস্পতিবার থেকে টিসিবির। মানুষ এসে পণ্য না পেয়ে ফিরে যায়। কবে নাগাদ আবার পণ্য আনতে পারব তা জানি না। 

তবে টিসিবি থেকে বলেছে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর একটা সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

আজ কারফিউ শিথিল হচ্ছে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত, অফিস-আদালত খোলা বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। সংস্থা দুটির সূত্র জানায়, সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর এসব পণ্য সরবরাহ ও বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। তবে আজই শুরু হবে কিনা, তা জানা যায়নি।

কারফিউর সংকটময় পরিস্থিতিতেও গতকাল পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সরকারি কোনো সংস্থাকে। টিসিবি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক কোটি পরিবারের পণ্য ক্রয় ছাড়াও কার্ডবিহীন যে কেউ স্বল্প মূল্যে এসব পণ্য কেনার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ফলে সারা দেশে প্রায় ৫ কোটি মানুষ গত বুধবার থেকেই খাদ্য সংকটে পড়েছে। 

অন্যদিকে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় কারফিউর কারণে পণ্যের সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ায় দোকানগুলোয় নেই নিত্যপণ্য। বাসাবাড়িতে জমা খাবারও ফুরিয়ে এসেছে। তাই নিম্ন আয়ের মানুষ এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও খুব একটা সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছে না। এতে নিম্ন আয়ের দরিদ্র মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।


আরও