বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. তৌফিক আলম। শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে ঘোষিত ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম। ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সেশনজটের আশঙ্কায় পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিভাগীয় কমিশনার অনুষদের ডিনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে উপাচার্যের কার্যালয়ে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের বিষয়ে ভিসি, শিক্ষক ও বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে এক ত্রিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে শিক্ষকদের পদোন্নতিসহ অন্যান্য দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এ বিষয়ে আলোচনার সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মত প্রকাশ করেন। উপাচার্যও জানান, আগামী রবিবার থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা চালু হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের মধ্যে ৫টি অনুষদের ডিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইতিবাচক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও উপাচার্য) আমাদের বলেছেন, আপনারা আইন অনুযায়ী সবকিছু পাবেন। তারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এখন যেহেতু পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তটি আমরা সব শিক্ষক মিলে নিয়েছিলাম, তাই আবার সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে রবিবারের মধ্যে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, চলমান বিষয় নিয়ে আজ বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসি মহোদয়ের সঙ্গে ডিনদের বৈঠক ছিল। সেখানে ছয় অনুষদের মধ্যে পাঁচজন ডিন উপস্থিত ছিলেন। তারা (বিভাগীয় কমিশনার ও ভিসি) আমাদের দাবির কিছু বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষকদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বোর্ড বসানো হবে। এ ছাড়া তারা আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, আমরা আজ বিভাগীয় কমিশনারের উপস্থিতিতে ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে তাদের দাবিগুলো শোনা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী শিক্ষকরা যতটুকু পাওয়ার কথা, তা দিতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি এ বিষয়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠাব। তিনিও বিষয়টি যাচাই-বাছাই করবেন এবং আমরা শিগগিরই একটি সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে বিষয়টির সমাধান করব। আমি তাদের ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তারা (ডিনরা) জানিয়েছেন, রবিবারের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন।