এ বিরাট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে কিছু ক্ষেত্রে মূসকের সংকুচিত হার আদর্শ হারে উন্নীত করা হয়েছে। সম্পূরক শুল্ক হার যৌক্তিক করতে আইনের কিছু বিধান সহজ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা দেশীয় শিল্প বিকাশে দেয়া হবে নানা প্রস্তাব। চলতি অর্থবছরে মূসক আহরণে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকার।
ব্যাংক খাতে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতির ওপর আবগারি শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অব্যাহতি রয়েছে। ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক স্থিতির ওপর ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়।
জাতীয় এপিআই (অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টস) উৎপাদন ও রফতানি নীতিমালার আলোকে এপিআই উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে সব ধরনের মূসক এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে আগাম করসহ মূসক ও সম্পূরক শুল্কসংক্রান্ত বিদ্যমান অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে। ফলে দেশে এপিআই উৎপাদকরা স্বস্তিতে থাকবেন।
আমদানি পর্যায়ে লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসে (এলএনজি) বিদ্যমান ১৫ শতাংশ মূসকের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ মূসক প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ মূসক অব্যাহতি দেয়া হতে পারে।
লোহা ও স্টিলের এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে সাড়ে ৭ শতাংশ অতিরিক্ত মূসক অব্যাহতির পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে রেয়াতি সুবিধা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।
মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অব্যাহতি সুবিধা স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে (টেবিল-১) ২ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ, স্থানীয় সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে (টেবিল-২) ৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৭ শতাংশ, টেবিল-৩-এর ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে রেয়াতি সুবিধা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে।
উৎপাদন পর্যায়ে মূসক হার সিমেন্ট শিটে ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫, ফেরো-ম্যাঙ্গানিজ ও ফেরো-সিলিকো-ম্যাঙ্গানিজ অ্যালয় প্রতি টন ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০, ফেরো-সিলিকন অ্যালয় প্রতি টন ১ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০, ব্যবসায়ী পর্যায়ে এমএস প্রডাক্ট প্রতি টন ২০০ টাকা বহাল ও সেবা পর্যায়ে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
লিফটের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে সব মূসক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।
ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেনের উৎপাদন পর্যায়ে মূসক এবং এসব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সব ধরনের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (আগাম করসহ) অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।
ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার ও প্রেসার কুকারের উৎপাদন পর্যায়ে মূসক এবং এসব পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সব মূসক ও সম্পূরক শুল্ক (আগাম করসহ) অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।
স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটরের ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হবে।
ভারী শিল্প হিসেবে মোটর কার ও মোটর ভেহিকলের পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়ি, সাধারণ ও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স এবং ৭০ থেকে ৩০০ কিলোওয়াট পর্যন্ত ফোর হুইলার সাধারণ ও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য ইলেকট্রিক ভেহিকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলারের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ শতাংশের অতিরিক্ত মূসক এবং উপকরণ ও যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে আগাম করসহ সব মূসক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
হাসপাতাল শয্যা উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে সব মূসক এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ আমদানি ও স্থানীয় পর্যায়ে কেনার ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আমদানি পর্যায়ে কিছু পণ্যের মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেজন্য এখন থেকে বল পয়েন্ট পেন, সেট টপ বক্স, লিফট অ্যান্ড স্কিপ হোয়েস্টস, সার্জিক্যাল সিজার, সার্জিক্যাল ক্যাটগাট আমদানির সময় ১৫ শতাংশ করে মূসক দিতে হবে। এছাড়া আরো কিছু পণ্যে টন প্রতি মূসকের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে সব মূসক এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সব মূসক (আগাম করসহ) ও সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটারি উৎপাদন পর্যায়ে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূসক ও ব্যাটারির প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে আগাম করসহ সব মূসক ও সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
ই-বাইকের স্থানীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূসক এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি ও স্থানীয়ভাবে কেনার ক্ষেত্রে সব মূসক (আগাম করসহ) ও সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, কম্প্রেসর ও এয়ারকন্ডিশনারের উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে সম্পূরক শুল্ক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। তবে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, কম্প্রেসর ও এয়ারকন্ডিশনারের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কমিউনিটি সেন্টারকে উৎসে কর্তনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এমএস পণ্য উৎপাদন ও পরিবর্তন করে সরবরাহের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট করের অতিরিক্ত হিসেবে প্রতি টনে ৮০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব হচ্ছে।
হাইব্রিড গাড়ির জন্য আইএস প্রযুক্তির আইডল স্টার্ট স্টপ ব্যাটারির স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হতে পারে যেসব পণ্যে: উৎপাদন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের পাতা, ফুল বা বাকলের তৈরি প্লেট বাটিসহ সব ধরনের তৈজসপত্র, হাতে তৈরি মাটির তৈজসপত্র, টেক্সটাইল গ্রেড পেট চিপস; উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২২ ইঞ্চির পরিবর্তে ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটার মনিটর, সেবা পর্যায়ে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ কোম্পানি, যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত উড়োজাহাজের (এয়ার ক্রাফট) লিজ রেন্ট; ব্যবসায়ী পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন, প্যাকেটজাত তরল দুধ ও বল পয়েন্ট পেন।
বাস ও ট্রাকের বডি তৈরিতে ৫ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ ও অনলাইনে পণ্য বিক্রিতে ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হবে।
সিগারেট পেপার আমদানিতে ১৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ শতাংশ এবং ওটিটি বা ওভার দ্য টপ প্লাটফর্মে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রস্তাব করা হচ্ছে।
নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অব্যাহতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে।