বিমানবন্দরে স্থান সংকট

ঢাকায় বেজ স্থাপনের অনুমতি পাচ্ছে না নতুন দুই এয়ারলাইন

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এয়ার অ্যাসট্রা ও ফ্লাই ঢাকা নামে দুটি এয়ারলাইনস। নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে যেসব এয়ারলাইনস কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের প্রতিদিন রাতে বহরের উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার সকালে ফ্লাইট শুরুর আগেও একবার করে এসব উড়োজাহাজ পরিদর্শন করতে হয় প্রকৌশলীদের। এজন্য একটি বিমানবন্দরকে বেজ হিসেবে ব্যবহার করে এয়ারলাইনসগুলো।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এয়ার অ্যাসট্রা ফ্লাই ঢাকা নামে দুটি এয়ারলাইনস। নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে যেসব এয়ারলাইনস কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের প্রতিদিন রাতে বহরের উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আবার সকালে ফ্লাইট শুরুর আগেও একবার করে এসব উড়োজাহাজ পরিদর্শন করতে হয় প্রকৌশলীদের। এজন্য একটি বিমানবন্দরকে বেজ হিসেবে ব্যবহার করে এয়ারলাইনসগুলো। এখন পর্যন্ত দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো বেজ হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেই ব্যবহার করে আসছিল। তবে পার্কিং সংকটের কারণ দেখিয়ে বেজ স্থাপনের জন্য এয়ার অ্যাসট্রা ফ্লাই ঢাকাকে দেশের অন্য কোনো বিমানবন্দর বেছে নিতে বলেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) অবস্থায় পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রুত কার্যক্রমে আসা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে এয়ারলাইনস দুটির মধ্যে।

এয়ার অ্যাসট্রা ফ্লাই ঢাকাকে বেবিচক জানিয়েছে, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে উড়োজাহাজ পার্কিংয়ে স্থান সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলমান। নতুন টার্মিনালটির অ্যাপ্রোন ব্যবহার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বহরের উড়োজাহাজগুলোকে রাতে পার্কিংয়ের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। ফলে কার্যক্রমে আসতে চাইলে নতুন এয়ারলাইনসগুলোকে দেশের অন্য কোনো বিমানবন্দরের পার্কিং ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ এয়ারলাইনসের বেজ স্টেশন হতে হবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অথবা সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

বেবিচক সূত্র বলছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের সুবিধার জন্য নতুন হাইস্পিড কানেকটিং ট্যাক্সিওয়ে বানানো হচ্ছে, যার নির্মাণকাজ রাতে চলছে। কারণে বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে রাতে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকছে। যার প্রভাবে দিনে ফ্লাইটের অসম্ভব চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী নতুন এয়ারলাইনসগুলোকে যেহেতু প্রথম এক বছর অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়, তাই চাপ বাড়বে শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালেও। অবস্থায় নতুন এয়ারলাইনসকে এখনই কার্যক্রম শুরু করতে নিরুৎসাহিত করছে বেবিচক।

প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের জন্য রাতে ফ্লাইট বন্ধ রাখায় শাহজালাল বিমানবন্দরে দিনে চাপ বেড়েছে। অন্যদিকে বিমানবন্দরে বিদ্যমান অ্যাপ্রোনে উড়োজাহাজ পার্কিংয়ে স্থান সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণে নতুন এয়ারলাইনস দুটিকে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তারা চাইলে দেশের অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। আশা করা যাচ্ছে, অ্যাপ্রোনের কাজ সমাপ্ত হলে আগামী বছর নাগাদ শাহজালাল বিমানবন্দরে এয়ারলাইনস দুটিকে কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেয়া হতে পারে।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকেই ফ্লাইট কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল এয়ার অ্যাসট্রা ফ্লাই ঢাকা। চলতি মার্চ থেকেই এয়ার অ্যাসট্রার বছরের মাঝামাঝি সময়ে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা ছিল ফ্লাই ঢাকার। এজন্য গত বছরই এয়ারলাইনস হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেবিচকের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) পায় প্রতিষ্ঠান দুটি। এখন বাকি রয়েছে এয়ারওর্দিনেস সার্টিফিকেট (এওসি) তবে এওসি পাওয়ার আবেদন করতে হলে আগে উড়োজাহাজ নিয়ে আসতে হয়। সে প্রক্রিয়ায় অনেকটা এগিয়েও গেছে এয়ার অ্যাসট্রা। পাশাপাশি জনবল নিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে সেলস অফিসও স্থাপনের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে এয়ারলাইনস দুটি। এখন শেষ মুহূর্তে এসে সংকট তৈরি হয়েছে এয়ারলাইনসের বেজ স্টেশন নির্বাচন নিয়ে।

এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে দেশের সব এয়ারলাইনসই বেজ স্টেশন হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দরকে ব্যবহার করছে। ফলে প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান, অফিস স্টাফ থেকে শুরু করে সবকিছুই গড়ে উঠেছে রাজধানীকেন্দ্রিক। অবস্থায় সিলেট অথবা চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে বেজ স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করতে হলে এয়ারলাইনসগুলোর খরচ বাড়বে। কারণ প্রতিদিন রাতে বহরের উড়োজাহাজগুলোকে প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরিদর্শন করাতে হয়। যেটিকে ডেইলি ইন্সপেকশন (ডিআই) বলা হয়। আবার সকালে ফ্লাইটের আগে বাধ্যতামূলকভাবে প্রিডিপার্চার চেক (পিডিসি) করতে হয়। কারণে বেজ স্টেশনেই থাকতে হয় প্রকৌশলী টেকনিশিয়ানদের। আবার বৈমানিক কেবিন ক্রুদেরও বেজ স্টেশনের কাছে থাকতে হবে। যেহেতু সবই রাজধানীকেন্দ্রিক, সেহেতু অন্য জেলায় লোকবল স্থানান্তর করতে হলে খরচ বাড়বে এয়ারলাইনস দুটির। যেটি আসলে ব্যবসায় লোকসান ডেকে আনবে।

এয়ার অ্যাসট্রার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ঢাকার বাইরে অন্য বিমানবন্দরকে বেজ হিসেবে ব্যবহার করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সেটি মোকাবেলার জন্য আমরা এরই মধ্যে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। বেজ স্টেশন হিসেবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পরিকল্পনায় রেখেছি আমরা। প্রকৌশলীসহ অন্যান্য স্টাফদের সেখানে আমরা রোস্টার করে পাঠাব। বৈমানিক অন্য ক্রুরাও সেভাবে রোস্টার করে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, আমরা আগামী জুনের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছি। এরই মধ্যে দুটি এটিআর-৭২ উড়োজাহাজ আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী এপ্রিলে উড়োজাহাজ দুটি দেশে পৌঁছলে বেবিচকে এওসির জন্য আবেদন করা হবে। আশা করা যায়, পরবর্তী এক মাসের মধ্যেই এওসি পাওয়া সম্ভব হবে। এর মধ্যেই লোকবল নিয়োগ, বিভিন্ন বিমানবন্দরে অফিস স্থাপনসহ সব কাজ শেষ হবে।

এদিকে বেজ স্টেশন স্থাপনের জটিলতার কারণে ফ্লাই ঢাকা তাদের কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, শাহজালাল বিমানবন্দর প্রস্তুত না হওয়ায় এখনই কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নেই। বেবিচকের পক্ষ থেকেও তাদের বলা হয়েছে বিমানবন্দর প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশীয় এয়ারলাইনস হিসেবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া ফ্লাইট কার্যক্রমে রয়েছে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস নভোএয়ার। কভিডের আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালে আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫ লাখ। তবে কভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ শুরু হলে ২০২০ সালে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী সংখ্যা কমে যায়। ওই বছর দেশের সব অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রী সংখ্যা ছিল ২০ লাখেরও কম। কভিডের প্রভাব কিছুটা কমার পর থেকেই আবারো অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী বাড়তে শুরু করে। গত বছর দেশের সব অভ্যন্তরীণ রুটের যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ লাখ। বছর সেটি আরো বেড়েছে।

আরও