দেশের অন্যতম বৃহৎ কনগ্লোমারেট স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যামসন এইচ চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী আজ। গোপালগঞ্জের আড়ুয়াকান্দিতে ১৯২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ছিলেন চিকিৎসক। ১৯৩২ সালে তিনি বাবার সঙ্গে পাবনার আতাইকুলায় আসেন। ১৯৫৮ সালে তিনজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ১৭ হাজার টাকা পুঁজিতে স্কয়ার ফার্মা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তার ব্যবসায়ী জীবন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন স্কয়ার গ্রুপ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এ গ্রুপের চেয়ারম্যান ছিলেন।
পঞ্চাশের দশকের শেষ ভাগে যাত্রা করা এ ছোট উদ্যোগ এখন বিরাট প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ওষুধ, বস্ত্র খাত, টয়লেট্রিজ পণ্য উৎপাদন, গণমাধ্যমসহ স্কয়ারের বিনিয়োগের গণ্ডি এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়েছে।
স্যামসন এইচ চৌধুরী ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি মারা যান। তাকে পাবনা শহরের কাশীপুরের বাসভবন এস্ট্রাসে সমাহিত করা হয়। তার প্রয়াণের সময় ২০১২ হিসাব বছরে স্কয়ারের তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি স্কয়ার ফার্মা ও স্কয়ার টেক্সটাইলসের নিট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার বেশি।
জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থেকে শিল্প-বাণিজ্য খাতের সমস্যা সমাধান ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সহসভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সামাজিক কাজেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ছিলেন ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত।
তিনি একুশে পদক, সর্বোচ্চ করদাতা, আমেরিকান চেম্বার কর্তৃক বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দ্য ইয়ারসহ বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। শিল্পোৎপাদন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি আয় বৃদ্ধি করে স্যামসন এইচ চৌধুরী জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য তিনি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
স্যামসন এইচ চৌধুরীর তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে স্যামুয়েল এস চৌধুরী (স্বপন চৌধুরী) বর্তমানে স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান, মেজ ছেলে তপন চৌধুরী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার হাসপাতাল ও স্কয়ার টেক্সটাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছোট ছেলে অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু মাছরাঙা টেলিভিশন, স্কয়ার টয়লেট্রিজ, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। একমাত্র মেয়ে রত্না পাত্র স্কয়ার গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান।