সড়ক ও নৌপথে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয় ফলটি। চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় তরমুজের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে সরবরাহ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের ছুটি শেষে ভোলার ইলিশা ঘাটে যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় ঘাটে আটকে পড়েছে তরমুজবোঝাই কয়েকশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। দিনের পর দিন আটকে থাকায় অধিকাংশ ট্রাকের তরমুজে পচন ধরেছে। এতে বড় অংকের লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সকালে ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে তরমুজবোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ সারি। অনেক চালক তিন-চারদিন ধরে অপেক্ষা করেও ফেরিতে উঠতে পারছেন না। দিনের পর দিন আটকা পড়ে তরমুজ পচে নষ্ট হচ্ছে।
চরফ্যাশনের চরকলমি এলাকা থেকে আসা ট্রাকচালক মো. ফিরোজ বলেন, ‘দুই হাজারের বেশি তরমুজ নিয়ে তিনদিন আগে ঘাটে এসেছি। এখনো পার হতে পারিনি। তরমুজ থেকে পানি বের হচ্ছে, সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
তরমুজচাষী মো. আলাউদ্দিন জানান, ঋণ করে তরমুজ চাষ করেছেন। ভালো দামের আশায় নিজেই চট্টগ্রামে বিক্রির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু দুদিন ধরে ঘাটে আটকা পড়ে আছেন। আর এক-দুদিন থাকলে বিক্রির মতো তরমুজ থাকবে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ইলিশা ঘাট ব্যবস্থাপক মো. কাওছার হোসেন বলেন, ‘ঈদের কারণে যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেশি থাকায় সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে পণ্যবাহী ট্রাক কম পারাপার হচ্ছে। এ রুটে চলাচলকারী চারটি ফেরির মধ্যে একটি বিকল রয়েছে। সেটি মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন একটি ফেরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কাঁচামাল পরিবহন স্বাভাবিক রাখতে ফেরি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ভোলার সাতটি উপজেলায় তরমুজের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে। ফলনও খুব ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় সাত লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হবে।’