নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক যুবদল কর্মী নিহত এবং উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৯ মার্চ) সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবদল কর্মীর নাম হাসিব হোসেন (২৫)। তিনি চনপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সংঘর্ষের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদলের শামীম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রব্বানীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাতভর চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষই গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে হাসিব হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংঘর্ষের ঘটনায় চনপাড়া এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত হাসিবের বড় ভাই যুবদল কর্মী বাবু বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী রবিনকে এলাকার কয়েকজন আটক করে। এ সময় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রব্বানী ও তার লোকজন এসে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। পরে তারা বুধবার সকালে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার ছোট ভাই হাসিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘আমি এলাকায় নেই। শুনেছি, রবিন নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রব্বানীর লোকজন আমার যুবদল কর্মী হাসিবকে গুলি করে হত্যা করেছে। তার পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। রব্বানী আমার সংগঠনের কর্মী। এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের গ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইসলাম বলেন, ‘চনপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শামীম ও রব্বানী গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে আমাদের অভিযান চলছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’