ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়ছেন আলোচিত অনেক প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করতে ৩০০ সংসদীয় আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখন চলছে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। গতকাল দ্বিতীয় দিনে আলোচিত ও হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট করতে ৩০০ সংসদীয় আসনে ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এখন চলছে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। গতকাল দ্বিতীয় দিনে আলোচিত ও হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-২ আসনের নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমান। ঋণখেলাপির কারণে যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূবের মনোনয়নপত্র টেকেনি। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাছাইপর্ব পার করতে পারেননি। কুমিল্লা-৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

বগুড়ার তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে সাতজনের। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপির ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গোলমাল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় তথ্য গরমিল থাকায় বাতিল করা হয়েছে তার মনোনয়নপত্র। জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ হলফনামায় সম্পদের বিবরণীর ফরম দাখিল না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সেলিম সরকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালুর মনোনয়নপত্রও বাছাইয়ে টেকেনি।

মাহমুদুর রহমান মান্নার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘ওনার হলফনামায় দেয়া তথ্যে বড় ধরনের গরমিল পাওয়া গেছে। তথ্যে অসংগতি ও অস্পষ্টতা থাকায় মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। হলফনামার এফিডেভিটে একই দিনে আইনজীবী ও প্রার্থীর সই থাকতে হয়। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্না যেদিন সই করেছেন, আইনজীবী তার একদিন আগেই সই করেন। তাছাড়া যেসব মামলায় তিনি খালাস পাওয়ার কথা লিখেছেন, সেগুলোর কাগজপত্র দেননি। আর সম্পদের যে বিবরণী দিয়েছেন, তাতেও ত্রুটি আছে।’

এর আগে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকায় থাকায় তার ভোটের পথ আটকে ছিল। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য তিনি হাইকোর্টে আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে মান্না আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ঋণ পুনঃতফসিল করে সিআইবির তালিকা থেকে নাম কাটানোর আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। এ আবেদন শুনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক গত রোববার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে দেন। সেই সঙ্গে সিআইবির তালিকায় মান্নার নামও স্থগিত করা হয়। ফলে ঋণসংক্রান্ত কারণে তার নির্বাচন করার জটিলতা কেটে যায়। এখন পড়লেন নতুন সংকটে।

এদিকে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রয়েছে। এ মামলার তথ্য গোপন করায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তবে প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে তিনি আপিল করতে পারবেন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘মনোনয়নপত্রে উল্লিখিত তথ্যে গরমিল থাকায় জেলার দুই আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কক্সবাজার-২ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন সাতজন। এর মধ্যে জামায়াত প্রার্থী এএইচএম হামিদুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলার মনোনয়নপত্র এ আসন থেকে বাতিল হয়েছে। এছাড়া মনোনয়নপত্রের তথ্যে গরমিল থাকায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন ইসলামী আন্দোলনের মো. ছরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের আবদুল্লাহ আল ফারুক ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আবদুল কাদের।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করায় গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাজেদুর রহমানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ আসনে সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন, দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রমজান আলী ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গাইবান্ধা-২ আসনে দলের মনোনয়নপত্র সঠিক না হওয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল মাজেদ ও হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুব আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। এ আসনে ভোটারের স্বাক্ষরে অমিল পাওয়ায় বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে।

ঋণখেলাপি হওয়ায় যশোর-৩ আসনে বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের মনোনয়নপত্র। যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ূব, জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ এএইচ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

কুমিল্লা-৫ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে যার স্বাক্ষরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থিতা মনোনীত হবে উল্লেখ করা হচ্ছে, তার মনোনয়নপত্রে সেটি নেই। তাই আমরা যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল বলে গণ্য করেছি। যে অসামঞ্জস্যতা পাওয়া গেছে তা ঠিক করার জন্য তিনি আইনগতভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।’

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল ক্বাফী বলেন, ‘বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের স্বাক্ষরিত ফরমে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু হালনাগাদ না করায় তারা আমাদের নতুন কমিটির তথ্য হয়তো জানেন না। যে কারণে আমার মনোনয়নপত্রে নতুন সভাপতির স্বাক্ষর দেখতে পেয়ে তারা সেটিকে বাতিল বলছে। নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য আবেদন করব। যদিও এটি তাদেরই ভুল।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছয় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরজনিত জটিলতায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের নজরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আরিফুর রহমান, নূরে আলম সিদ্দিকী, উমর ইউসুফ খান ও কাজী জাহাঙ্গীর। এ নিয়ে সপ্তমবারের মতো কাজী জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হলো।

খুলনায় তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে। তারা হলেন খুলনা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামীম আরা পারভীন (ইয়াসিন) এবং খুলনা-৬ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদুল বিশ্বাস। এছাড়া খুলনা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র মুলতবি রাখা হয়েছে।

ময়মনসিংহে পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ে ময়মনসিংহ-১ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হক ঋণখেলাপি ও মামলার তথ্য গোপন করায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী না দেয়ায় ময়মনসিংহ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক এমপি শাহ্ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক চালানের মূল কপি ও মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থন সূচক কাগজপত্র দিতে না পারায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ময়মনসিংহ-৩ আসনে বাংলাদেশের নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আবু তাহের খান হলফনামায় মামলাসংক্রান্ত তথ্য না দেয়া ও সম্পদের বিবরণী না দেয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলামের মনোনয়নপত্রে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রংপুরের দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রংপুর-৩ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিটা রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ-মার্ক্সবাদী) আনোয়ারুল ইসলাম বাবলু এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল। রংপুর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আব্দুস সালাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম বাশার ও জয়নুল আবেদিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা হলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত প্রার্থী শেখ মো. কামাল হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী আনিস মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি নুর হোসাইন নুরানী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন।

বরিশালের তিনটি আসনে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বিভিন্ন অসংগতির কারণে বাতিল হয়েছে। বরিশাল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম মাহবুব আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বরিশাল-৬ আসনে মুসলিম লীগের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুসের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। অঙ্গীকারনামায় অসংগতির কারণে বরিশাল-৫ সদর বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্ত্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকায় একজন মৃত ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষরের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া নানা অনিয়মের কারণে দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (জাকের) প্রার্থী মোহা. এরশাদ উল্ল্যার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে চারজনের। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার, আহমদ কবির এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের এইচএম আশরাফ বিন ইয়াকুব ও গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান। চট্টগ্রাম-৩ আসনে দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় জাতীয় পার্টির এমএ ছালামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া খেলাপি ও ভোটারের সত্যতা না থাকায় স্বতন্ত্রের মো. মোয়াহেদুল মাওলা এবং দ্বৈত নাগরিকের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের।

পাবনা-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই বিএনপি নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিল হওয়া দুজন হলেন সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খায়রুন নাহার খানম ও কেন্দ্রীয় তাঁতী দলের সহসভাপতি ইউনুস আলী।

শরীয়তপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইমরান হোসেন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আক্তারুজ্জামান সম্রাট, জনতার দলের প্রার্থী পারভেজ মোশাররফ এবং তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহানা কাদির রহমান, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. নাসিরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করা যাবে। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে এসব আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।

আরও