সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা
ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে চলেছে গজুয়াকাটি খাল,
যার এক পারে রয়েছে গজুয়াকাটি, অন্য
পারে চেউটিয়া ও বাইনতলা গ্রাম। এ তিন গ্রামের মানুষের খাল পারাপারের একমাত্র
মাধ্যম বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ একটি সাঁকো। ছুটির দিন ব্যতীত স্থানীয় তিনটি
বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। সাঁকো
পার হতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই এসব শিক্ষার্থী পা পিছলে খালের মধ্যে পড়ে যায়। স্থানীয়রা
বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে খালটির ওপর একটি সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানালেও
এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গজুয়াকাটি
খাল দিয়ে বাইনতলা আরসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,
ত্রয়োদশ পল্লী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও
গজুয়াকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী
প্রতিদিন পারাপার হয়। এছাড়া এ তিন গ্রামের ৭০০-৮০০ মানুষ প্রতিদিন সাঁকোটি ব্যবহার
করে।
বাইনতলা গ্রামের অরবিন্দ মণ্ডল, কার্ত্তিক
মণ্ডল ও মফিজুল ইসলাম জানান,
বর্তমানে বাঁশের সাঁকোটির জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে
অবস্থা। যে কারণে এটি পারাপার হওয়া এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ছোট
শিক্ষার্থীদের জন্য এটি কষ্টকর। প্রায়ই এ সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে বই-খাতাসহ
শিক্ষার্থীরা খালের মধ্যে পড়ে যায়। কখনো আহত হওয়া ও জামাকাপড়, বই-খাতা নষ্ট
হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
এলাকার একাধিক অভিভাবক ঝুঁকিপূর্ণ এ
সাঁকো দিয়ে সন্তানদের প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁশের
সাঁকোর স্থানে দ্রুত সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে
দাবি জানিয়েছেন তারা।
দীপালি রায়, অনিতা
মণ্ডল, সরস্বতীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলের দিন ভয় নিয়ে সাঁকো পার হয়
তারা। অনেকে পা পিছলে সাঁকো থেকে খালের পানিতে পড়ে বইপত্র নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আহত
হয়। এসব শিক্ষার্থীও সাঁকোর পরিবর্তে সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যান মো. শাহ নেওয়াজ জানান,
ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে ছুটির দিন ব্যতীত তিনটি
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। এসব শিক্ষার্থীর কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে
৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি
গত বছর টেন্ডার হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে বাতিল হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প
বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান বলেন,
২০১৮-১৯ অর্থবছরে গজুয়াকাটি খালের ওপর একটি
কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল,
যার টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি
ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। ফলে চলতি অর্থবছর গজুয়াকাটি খালের ওপর একটি
গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য মন্ত্রাণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা বিবেচনায়
নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ
আল মামুন। তিনি জানান, খালটির ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত একটি কাঠের পুল বা সেতু
নির্মাণ করে দেয়, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।