কক্সবাজারে বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে নুনিয়ারছড়া এলাকায় জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে দখলদার ও তাদের সমর্থকরা বাধা দেয়। অভিযান বন্ধের দাবিতে কয়েকশ নারী-পুরুষ বিক্ষোভ করেছেন। কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে, ঠেলাগাড়ি রেখে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর ভাংচুর করা হয়। বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শহরের গুনগাছতলা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিক্ষোভকারীরা তাদেরও ঘিরে ধরে। এক পর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ লুৎফুর রহমান কাজল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নদীপাড়ে তাদের অনেকের ঘরবাড়ি আছে। অনেকে জমি কিনে ঘর করেছেন। এখন ঘর থেকে তাদের উচ্ছেদের কথা বলা হচ্ছে। তাই প্রতিবাদ জানাতে এসেছেন। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারি পাহাড়ে আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর গত সোমবার বিআইডব্লিউটিএর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে।
বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন শাখা) কেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযানে বাধার মুখেও এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ একরের মতো নদীর জমি উদ্ধার করতে পেরেছি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে ৪০০-এর বেশি। নদীর জমি দখল ও ভরাট করে শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে খুরুশকুল সেতু পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারে যেসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, সেসব উচ্ছেদ করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।’
জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে বাঁকখালী নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযানে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের দ্বিতীয় দিন থেকেই উচ্ছেদবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে, হামলা হচ্ছে। গতকাল সড়ক অবরোধ হলো, তাতে জনদুর্ভোগও বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে কীভাবে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।’