আমন্ত্রণপত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে এবং তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমন্ত্রণ আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমরা সেটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।’
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ১১ সদস্যের এ জোটের সদস্য নয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ হলো ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিবেশী দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে, গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমাদের এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক, সেটাই আমাদের অবস্থান।’ তিনি বলেন, ‘ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতন্ত্র। সেই গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তারাও তাদের জনগণের অবস্থান দেখবে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে সেটাই আমরা আশা করব।’
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময়ই ভালো ছিল। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে তা আরো জোরদার হচ্ছে ও হবে।’ আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো উচ্চ পর্যায়ের সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরো গভীর করে।’ এ সফরের মাধ্যমে নতুন কিছু অগ্রগতি হবে এমন আশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আছে। সেগুলো আরো সুগম হবে। আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পিপল ডিপ্লোমেসি, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেয়ার পথ নিয়ে আলোচনা হবে।’
ভিসা সমস্যা ও বাংলাদেশী পাসপোর্টের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশী পাসপোর্টের কোনো অবনতি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগ থেকেই, বিশেষ করে আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে গত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে অনেক বাংলাদেশী বৈধ পথে বিদেশ যেতে না পেরে অবৈধ পথে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাগজপত্রও সঠিক থাকে না। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্যসহ যেসব দেশে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে সরকার কাজ করছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।