পটুয়াখালীতে জেলের জালে ধরা পড়ল জোড়া লায়ন ফিশ

লায়নফিশ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও এটি বিষধর মাছ। এর পাখনার কাঁটায় থাকা বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং কখনও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই খালি হাতে এ মাছ ধরা বা স্পর্শ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

পটুয়াখালীতে জেলের জালে ধরা পড়েছে এক জোড়া বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ লায়নফিশ। আজ সোমবার সকালে জেলার মহিপুর মৎস্য বন্দরে এফবি জাবের নামের একটি ট্রলারে মাছ দুটি আনা হয়।

লাল, সাদা ও বাদামি ডোরাকাটা এবং লম্বা কাঁটাযুক্ত পাখনার মাছটি দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। বিরল প্রজাতির এ মাছ দেখতে তাই মহিপুর মৎস্য বন্দরে সকাল থেকে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ।

যে ট্রলারে মাছটি মহিপুরে আনা হয়, সেটির মালিক আসাদ নামে এক মাঝি। তিনি জানান, গত শনিবার কুয়াকাটা উপকূলের গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় অন্য মাছের সঙ্গে লায়নফিশ দুটি জালে উঠে আসে। প্রথমে তারা মাছটি চিনতে পারেননি। পরে অবশয় জানতে পারেন এগুলো বিষাক্ত লায়নফিশ।

আসাদ বলেন, মাছ দুটি মহিপুর মৎস্য বন্দরের মায়ের দোয়া ফিশ আড়তে তোলা হয়। পরে ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন মাছ দুটি কিনে নেন। মাছ দুটির ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।

স্থানীয় জেলে রহিম মিয়া বলেন, প্রথমে সাধারণ মাছ মনে হয়েছিল। পরে দেখি গায়ে লাল, সাদা ও বাদামি ডোরাকাটা দাগ এবং পাখনাগুলো কাঁটার মতো। তখনই বুঝতে পারি এটি বিরল কোনো সামুদ্রিক মাছ।

মাছের ক্রেতা ছবির জানান, মাছ দুটি দেখতে সুন্দর হওয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তবে এসব মাছ খাওয়া উপযোগী কিনা সেটির ব্যাপারে এখনো জানা যায়নি। এর আগেও মহিপুর বন্দরের মুন্নি ফিসে এমন একটি মাছ পাওয়া গিয়েছিল।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, লায়নফিশ দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও এটি বিষধর মাছ। এর পাখনার কাঁটায় থাকা বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং কখনও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই খালি হাতে এ মাছ ধরা বা স্পর্শ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি জানান, লায়নফিশ (Pterois volitans) সাধারণত ভারত মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের উষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। এরা ছোট মাছ ও চিংড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, লায়নফিশের পাখনার কাঁটায় বিষ থাকে। অসাবধানতাবশত এর মাধ্যমে আক্রান্ত হলে তীব্র ব্যথা, ফোলা এবং কখনও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তাই জেলেদের এ ধরনের মাছ খালি হাতে না ধরার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আরও