বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ, চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার

বাহারি ফুলের আদলে লাল-সবুজ আভায় সাজানো হচ্ছে স্মৃতিসৌধ। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে শোভা পাচ্ছে বাহারি ফুলগাছ। লেকের পানিতে নতুন করে ছাড়া হয়েছে লাল শাপলা। গণকবর ও শহীদ বেদী ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এরই মধ্যে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। রং-তুলির আলপনার পাশাপাশি সাজিয়ে তোলা হয়েছে ফুল দিয়ে।

স্মৃতিসৌধ এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ১১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে সব দর্শনার্থীর প্রবেশ। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা পরিষদসহ ভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময়ও সাধারণ জনগণের প্রবেশ সীমিত থাকবে। এরপরই সবার জন্য খুলে দেয়া হবে স্মৃতিসৌধ।

এদিকে, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তাসহ স্মৃতিসৌধের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। বলেন, জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের যা যা করণীয়, আমরা সব ব্যবস্থা নিয়েছি। চার হাজারের বেশি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে, যা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এছাড়া, সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে বলেও জানান ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহারি ফুলের আদলে লাল-সবুজ আভায় সাজানো হচ্ছে স্মৃতিসৌধ। বিভিন্ন স্থানে লাল টবে শোভা পাচ্ছে বাহারি ফুলগাছ। লেকের পানিতে নতুন করে ছাড়া হয়েছে লাল শাপলা। গণকবর ও শহীদ বেদী ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। লেক সংস্কার ও আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। উচ্ছেদ করা হয়েছে স্মৃতিসৌধের আশপাশের সব অবৈধ স্থাপনা।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ আনোয়ার খান আনু বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামণ্ডলীসহ লাখ লাখ জনতা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সে উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে জাতীয় স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সকে ধুয়েমুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন শেষ মূহুর্তের কিছু কাজ বাকি আছে। সিসিটিভি স্থাপন, বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া হবে তিন বাহিনীর গার্ড অব অনার। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জনসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হবে। পরে সেখানে শ্রদ্ধা জানাবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।

এদিকে তথ্য অধিদপ্তরের এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না। পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের কোনোরকম ক্ষতি না করার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আরও