রংপুর নগরীতে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের দীর্ঘদিনের সংকট কিছুটা কাটতে যাচ্ছে। নগরীর বোতলা ও উত্তম এলাকায় নির্মাণাধীন দুটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের মধ্যে একটি আগামী শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বোতলায় নির্মাণাধীন বীরাঙ্গনা মনসুরা বেগম সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে আগামী বছরের প্রথম দিন থেকেই ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে উত্তম এলাকার বীরাঙ্গনা রূপালী বেগম সরকারি মাধ্যমিক স্কুলটি চালু হচ্ছে না।
রংপুর নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা মাত্র দুটি—রংপুর জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নতুন সরকারি মাধ্যমিক স্কুল গড়ে ওঠেনি। প্রতি বছর তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তির সময় এসব স্কুলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। এ অবস্থায় নগরীতে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
দীর্ঘদিনের সেই দাবির পর তৎকালীন সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় নয়টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের প্রকল্প নেয়। এর আওতায় রংপুরে নির্মাণ শুরু হয় ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের।
রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তম এলাকার স্কুলটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট। আর ২৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বোতলা এলাকার স্কুলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় একই বছরের ২৮ এপ্রিল। দুটি প্রকল্পেরই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়।
এর মধ্যে বোতলা এলাকার স্কুলটির নির্মাণকাজ এগিয়ে গেলেও উত্তম এলাকার কাজ ঝুলে থাকে। এ কারণে চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভায় উত্তম এলাকার স্কুলটির কাজ বাতিল করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এখন সেখানে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষে স্কুলটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে বোতলা এলাকার স্কুলটির নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। সরজমিনে দেখা গেছে, ভবন প্রায় প্রস্তুত; তবে নিচতলার কিছু কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ তলায় প্রধানসহ সহকারী শিক্ষক এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের প্রশাসনিক কার্যালয় থাকবে। কয়েকটি কক্ষের মেঝের কাজও বাকি। মাঠে মাটি ভরাট, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, বৈদ্যুতিক তারের ব্যবস্থা ও লিফটের কাজ এখনো শুরু হয়নি। নকশায় শহীদ মিনার ও নিরাপত্তাপ্রহরীর ছাউনিও রাখা হয়নি।
এরই মধ্যে স্কুলটির শিক্ষার্থী ভর্তির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবীর জিহাদীকে বোতলা এলাকার নতুন স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর জিহাদী জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২০২৭ সালের প্রথম দিন থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাঠদানের অনুমতি চেয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। তবে শুরুতে কতজন শিক্ষক সংযুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো তিনি নিশ্চিত নন।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আমিনুল হক আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, আবেদনের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকেই পাঠদানের অনুমতি দেয়া হবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে একটি স্কুল চালু হওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি স্কুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ। স্কুল দুটির নির্মাণ কাজ বিষয়ে রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রতীশ চন্দ্র সেন জানান, বোতলা এলাকার স্কুলটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হলে পুরো অবকাঠামোটি নতুন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর উত্তম এলাকার স্কুলটির নির্মাণকাজ সময়মতো শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। সেখানে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের জন্য আবারো দরপত্র আহ্বান করা হবে।