প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, ‘গায়ের জোরে কেউ সরকারি সম্পত্তি দখল করে রাখতে পারবে না। স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এটার বিষয়ে জিরো টলারেন্স। বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাও যদি জমি দখল করে থাকেন তাকেও ছাড় দেয়া হবে না। আইনে যা আছে সেটাই হবে।’
গতকাল দুপুরে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা এলাকার ঐতিহাসিক ‘ব্রজ নিকেতন’
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
সালমান ফজলুর রহমান বলেন, ‘জমিটি উদ্ধার কোনো রাজনৈতিক ব্যাপার নয়।
মূলত এটি ভিপি সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত। তারা বেআইনিভাবে দখলে থাকায় এটা উদ্ধার করা হয়।’
তিনি পুরনো জমিদার বাড়ি ‘ব্রজ নিকেতন’
আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, ‘এটাকে আমরা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। আমাদের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের নতুন প্রযুক্তি আছে। যার মাধ্যমে এ রিস্টোরেশনের কাজটা তারা করতে পারবে। আর এ কাজের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন হবে তা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে স্পন্সরশিপ নিয়ে করে দেব। আমি তাদের অনুরোধ করব।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক চন্দন কুমার দে, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ঝিলু, দোহার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মতিউর রহমান, দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলম, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, দোহার পৌরসভার মেয়র আলমাস উদ্দিন, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান কিসমত, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান সিকদার, নবাবগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নবাবগঞ্জ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির নতুন ভবন এবং নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় বেশ কয়েকটি উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন। নবাবগঞ্জ ও দোহারে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা অ্যাথলেটিকস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। দোহার উপজেলার নারিশা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন এবং দরিদ্রদের মাঝে শীতবস্ত্র ও চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করেন।
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা ইউনিয়নে প্রায় দেড়শ বছর আগে জমিদার ব্রজেন রায় নির্মিত ব্রজ নিকেতন নামের বাড়িটি গত ৩১ ডিসেম্বর দখলমুক্ত করে প্রশাসন।