পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গলসহ
বিভিন্ন উপজেলার দর্শনীয় ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় ঈদের ছুটিতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। পরিবার-পরিজন
নিয়ে ঘুরতে এসেছেন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা। জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো কয়েক
সপ্তাহ আগে থেকেই বুকিং নিশ্চিত হয়ে যায়। পর্যটন ব্যবসায় পড়েছে ইতিবাচক প্রভাব।
পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান,
এবার ঈদ ও নববর্ষের লম্বা ছুটিতে জেলার চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড
ঝর্ণা, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাতসহ প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো লোকে লোকারণ্য হয়।
এতে জমে উঠেছে পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবার মৌলভীবাজারে
রেকর্ড পরিমাণ পর্যটকের আগমন ঘটেছে। বিভিন্ন চা বাগান, হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে
ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় এখন মুখর জেলার পর্যটন খাত। এছাড়া স্থানীয় লোকজনও পরিবার-পরিজন
নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দিনভর ঘুরে বেড়াচ্ছে জেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া
জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসতে ঈদের
আগেই বুকিং হয়ে যায় জেলার হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলো।
বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা
যায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ঈদের দিন বিকাল থেকেই স্থানীয়রা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত
থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসতে শুরু করে মৌলভীবাজারে। দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড,
কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, ছায়া নিবিড় পরিবেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক,
বৃহত্তম হাওর হাকালুকি, সবুজ চা বাগান, খাসিয়াপল্লী, হামহাম জলপ্রপাত, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জী,
চা গবেষণা কেন্দ্র, কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ী, মুরইছড়া ইকোপার্ক, গগন টিলা, দোলনচাঁপা
ইকোপার্ক, মৌলভীবাজার সদরের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, মুন ব্যারেজ, রাজনগরের কমলারানীর দিঘিসহ
জেলার বিভিন্ন চা বাগানে।
মাধবপুর লেকে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী
আনজুম তাবাসসুম জানান, আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল এবার মৌলভীবাজার আসার। বন্ধুদের সঙ্গে
ঘুরতে এসে অনেক ভালো লাগছে। এখানকার সবুজ প্রকৃতি চা বাগান টিলা হাওর দেখে মুগ্ধ তিনি।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা
জানান, শহরের ইট-পাথর থেকে একটু স্বস্তি পেতে প্রকৃতির
কাছে আসা। অনেকেই এসেছে পরিবারের সঙ্গে। এখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি ও বিভিন্ন বন্যপ্রাণী
দেখে খুশি তারা।’
লাউয়াছড়া ইকো ট্যুরিস্ট গাইড অ্যাসোসিয়েশনের
সহসাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়াসহ সব পর্যটন কেন্দ্রে
প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়েছে। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রকৃতিও ছিল অনুকূলে। ট্যুরিস্ট গাইডের
মতো এ খাতে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এবার খুশি। কারণ সবার ভালো আয়-রোজগার হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের পর্যটন সেবা সংঘের সাংগঠনিক
সম্পাদক এসকে দাস সুমন জানান, ঈদের আগ থেকেই পর্যটকরা হোটেল বুকিং শুরু করে এবং প্রায়
শতভাগ বুকিং হয়ে যায়। সেই থেকে আগেই অনুমান ছিল, এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটন ঘুরতে আসবে।
তা-ই হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত বছরের শেষ দিকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আবার বছরের
শুরুতে জাতীয় নির্বাচন এসব কারণে এ খাতের যে ক্ষতি হয়েছে কিছুটা হলেও এবার পুষিয়ে নেয়া
যাবে।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে
বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জেলা
পুলিশ ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে। এছাড়া সাদা
পোশাকেও নিযুক্ত রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ
বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঈদের অন্যান্য সময়ের তুলনায়
পর্যটকের সমাগম অধিক ঘটেছে। ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি সব সময়ই বেশি হয়ে থাকে। তবে এবার
সংখ্যাটা খানিকটা বেশি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি যাতে না হয় সে বিষয়ে তারা সচেষ্ট
রয়েছেন।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনজুর
রহমান বলেন, ‘পর্যটকরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য স্পটগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ
মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।’