ছাত্র রাজনীতিকে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অপরাজনীতির ধারা থেকে বের করে জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণমুখী ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, ছাত্ররাজনীতি সংঘাতের নয়, জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম হতে হবে।
আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত 'সিটিজেন ডায়ালগ: ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন—চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড' শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল 'নির্বাচনী ইশতেহারে পানি, নদী ও কৃষি অঙ্গীকার এবং তার বাস্তবায়ন'।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তব্যে এ্যানি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ছাত্রসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে সময়ের ব্যবধানে কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড ছাত্ররাজনীতিকে বিতর্কিত করেছে। তিনি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। নতুন প্রজন্মের রাজনীতি হতে হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব।
পানিসম্পদমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের নদ-নদী ও খাল রক্ষায় সরকার বিভিন্ন পুনরুদ্ধার ও খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বহু নদী ও খাল দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই কৃষিনীতি গ্রহণ জরুরি। নদী রক্ষা আন্দোলনে নাগরিক সমাজ, গবেষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে নদী রক্ষা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রায়ই সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরো বলেন, শিল্পবর্জ্য, অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশের অনেক নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আসন্ন কোরবানিকে সামনে রেখে দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশুর মজুদ রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে চোরাই পশু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ১ কোটি ২ লাখ কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১ কোটি ২৩ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় খামারিদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ রফতানির সক্ষমতা তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।