গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ এএম আলশামেরি ও মানবসম্পদ উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসার বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত সহযোগিতা আরো জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গৃহকর্মী নিয়োগ, শ্রম দক্ষতা যাচাই (এসভিপি) এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তিগুলোর পর্যালোচনা ও নবায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়। পাশাপাশি সুবিধাজনক সময়ে যৌথ কমিশন ও যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং গমনপূর্ব ওরিয়েন্টেশন জোরদারের কথা বলা হয়।
বাংলাদেশী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা সময়মতো ইস্যু এবং নবায়নের অনুরোধ জানানো হয়। ওয়ার্ক পারমিটের বাড়তি ফির অজুহাতে কিছু নিয়োগকর্তার কারণে যে বিলম্ব হচ্ছে, তা নিরসনেও সৌদি সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সৌদি আরবে বাড়তে থাকা শ্রমিকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ আসন্ন রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার অনুরোধ জানান।